নয়াদিল্লি: তৃণমূলে (Trinamool Congress) ভাঙন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক চলাকালীনই গোপন বৈঠকে তৃণমূলের বিক্ষুদ্ধ সাংসদরা।বৈঠকে বসেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। জানা যাচ্ছে, কোনও এক সাংসদের বাসভবনে এই বৈঠক হচ্ছে। যে ছবি সামনে এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, সুখেন্দু শেখর রায় পদত্যাগ করেই বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। সব মিলিয়ে ১৪/১৫ জন। সুখেন্দু শেখর ছাড়াও এই বৈঠকে রয়েছে শর্মিলা ঠাকুর, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বসু নিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী।আলাদা ‘প্রেশার গ্রুপ’ তৈরি করতে লাগবে ১৯ সাংসদ। সেক্ষেত্রে ‘দলবিরোধী আইন’ কার্যকর হবে না। আজই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে চান বিদ্রোহী সাংসদরা।
দ্বিতীয় বিকল্প লোকসভা থেকে ইস্তফা দিতে পারেন তৃণমূলের লোকসভার বেশ কয়েকজন সাংসদ।লোকসভার ২৮ জনের মধ্যে ‘বিক্ষুব্ধ’ গোষ্ঠীতে আপাতত রয়েছেন। তৃণমূলের বিক্ষুদ্ধ সাংসদদের দল ভেঙে বেরোতে গেলে দুই তৃতীয়াংশ সমর্থনের প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে লোকসভার অন্ততপক্ষে ১৯ জন সাংসদকে সেখানে থাকতে হবে। সুখেন্দু শেখরকে বাদ দিয়ে যাঁদেরকে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা প্রত্যেকেই লোকসভার সাংসদ।বিক্ষুব্দদের তালিকায় রয়েছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার,শতাব্দী রায় (Satabdi Roy), দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee), জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmick), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, খলিলুর রহমান, আবু তাহের,শর্মিলা সরকার, অসিত মাল, বাপি হালদার, জগদীশ বসুনিয়া। এই সাংসদরা এখন আলাদা গোপন বৈঠক করছেন।তাঁরা এমন কোনও পদক্ষেপ করতে চাইছেন না, যাতে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন আনা যায়। সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত তাঁরা পর্যাপ্ত সংখ্যা জড়ো করতে পারেননি, তাই তাঁরা আরও বেশ কয়েকটি দিন সময় নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: রাজ্যসভা ও দল থেকে পদত্যাগ করলেন সুখেন্দু শেখর রায়
সূত্রের খবর, বৈঠকে আলোচনায় হয়েছে তাঁদের নেতা আর অভিষেক নন, স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি চিঠি দিয়ে জানাবেন তাঁরা। তাঁদের এবার থেকে সংসদে ‘ভিন্ন গোষ্ঠী’ বলে চিহ্নিত করা হোক। গণইস্তফা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও উপস্থিত সাংসদেরা আলোচনা করেছেন।
এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। গতকাল কীর্তি আজাদ গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছিলেন, তিনি তাঁর পাশে রয়েছেন। বাকি সাংসদরা, এক ডজনেরও বেশি, তাঁরাও দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনও ধরেননি। তাঁর সঙ্গে দেখাও করতে যাননি। যেদিকে এগোচ্ছে তৃণমূলের সংসদীয় দল, তাতে ভাঙন সময়ের অপেক্ষা। সুখেন্দুশেখর রায় প্রথম এটা জানিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি লোকসভার অনেক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন। যারা দলের মধ্যে থাকবেন না বলে পরিকল্পনা করছেন। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে সরাসরি বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও, আগেভাগেই দিল্লির সঙ্গে পাকা কথা সেরে রেখেছেন চার সাংসদ, তারা হলেন, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইউসুফ পাঠান, দেব অধিকারী, শত্রুঘ্ন সিনহা।এছাড়াও, তৃণমূলের আরও ৩ জন লোকসভা সাংসদ এই মুহূর্তে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে রাজ্যসভায়, ১৩ জনের মধ্যে ১ জন ইস্তফা দিলেন রাজ্যসভা থেকে। দাঁড়াল ১২। তৃণমূলের রাজ্যসভার দল ভেঙে আলাদা ‘প্রেশার গ্রুপ’ তৈরি করতে লাগবে ৮ জন।
