ওয়েব ডেস্ক : চোরবাগান (Chorbagan) সর্বজনীন দুর্গাপুজো (Durga Puja) মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার পর শহরের বড় পুজোগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন রাজ্য সরকারের। বড় পুজো মণ্ডপে আর ভিআইপি বা বিশেষ অতিথিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ কিংবা পৃথক লাইন রাখা যাবে না। সবাইকে একই লাইন দিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করতে হবে। রবিবার ভবানীভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই নির্দেশের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দর্শকদের জন্য তাঁর পরামর্শ, ”আমি জনগনকে বলব, মনের মধ্যে সহানুভূতি রেখেই মা দুর্গা দর্শন করুন। শাস্ত্র-পঞ্জিকা মতে যে কাজগুলি আছে তা করুন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আগামী দু’তিনদিন এই শোকার্ত পরিবারগুলির পাশে থাকব।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। চোরবাগানের ঘটনার পর শহরের অন্যান্য পুজো মণ্ডপে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বড় পুজোগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গঠিত বিশেষ দল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। মণ্ডপে কোনও খামতি নজরে এলে ঘটনাস্থলেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণও করা হতে পারে।
আরও খবর : চোরবাগানের ঘটনা সামনেই বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
বিশেষ দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিব রাজেশ সিনহা, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিম। শহরের বড় পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা, ভিড় সামলানোর ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। চোরবাগানের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্ঘটনার প্রভাব পড়েছে রাজ্য সরকারের বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজনেও। আগামী ২৬ অক্টোবর রাজ্যের উদ্যোগে যে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা, তা এ বার আড়ম্বরবর্জিতভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই দিন পুজো কমিটিগুলিকে ডাকা হবে। অনুষ্ঠানে চোরবাগানকাণ্ডে মৃত ১৯ জনের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হবে। পাশাপাশি আহতদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হবে।
