ওয়েব ডেস্ক : নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই শনিবার নির্বাচন সদনে বৈঠকে বসল কমিশনের ফুল বেঞ্চ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিং সান্ধু। কমিশনের তরফে বৈঠকের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে তিন কমিশনারের একসঙ্গে বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।এই বৈঠকেই বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসআইআরের (SIR) নোটিস পাওয়া ব্যক্তিদের সাধারণভাবে ইআরও বা এইআরও অফিসে গিয়ে সশরীরে শুনানিতে হাজির হতে হবে না। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শুনানির প্রয়োজন হলে ইআরও সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং সম্ভব হলে অনলাইনেই শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজন হলে কোনও ভোটার তাঁর হয়ে পরিবারের কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও শুনানিতে পাঠাতে পারবেন।
নাম নিয়ে অসঙ্গতি বা তথ্যের ঘাটতির কারণে যাঁদের নোটিস দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নথি সংগ্রহে বাড়ি বাড়ি যাবেন বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও। সংগৃহীত নথি ইসিআইনেট ব্যবস্থায় আপলোড করা হবে। এরপর সেই নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও। পাশাপাশি অনলাইন শুনানির পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দরিদ্র, শ্রমিক, গৃহহীন এবং রাতের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র ও শিবির করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আরও খবর : জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে ফের একজোট বিরোধীরা, ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক
এসআইআরের (SIR) সময়সীমাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিল্লিতে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ অক্টোবর করা হয়েছে। তা নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মহারাষ্ট্রে দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা ১২ অক্টোবর এবং নিষ্পত্তির সময়সীমা ১০ নভেম্বর করা হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। এসআইআরে নাম বাদ পড়া ব্যক্তি, নতুন ভোটার এবং প্রথমবারের ভোটারদের জন্য ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
এই বৈঠকের আগে কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে। বিভিন্ন বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল সেই রিপোর্টগুলিতে। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়। কমিশনের বক্তব্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য বা ভিন্নমতের সুযোগ রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হয়। সেই বিতর্কের মধ্যেই শনিবার কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠক হল।
