ওয়েবডেস্ক- ইরানের (Iran) যুদ্ধ পরিস্থিতি, সরকারের যুদ্ধ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে মার্কিন জনগণের (American people) প্রতি আহ্বান জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Iranian President Masoud Pajeshkian) । ইরান আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের শিকড় খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হয় ১৯৫৩ সালে। তেহরানের ভাষায়, সেটাই ছিল বিশ্বাসঘাতকতার শুরু।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট বলেছেন, এই অবিশ্বাস হঠাৎ তৈরি হয়নি। এটি ইতিহাসের ধারাবাহিক ফল। ১৯৫৩ সালে, ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক দেশের তেল শিল্প জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত নেন। এতে সরাসরি আঘাত লাগে ব্রিটিশ স্বার্থে। এরপর শুরু হয় গোপন অভিযান অপারেশন অ্যাজাক্স। CIA এবং MI6-এর যৌথ উদ্যোগে মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। আর পুনরায় ক্ষমতায় বসানো হয় শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পেহলভিকে। এই ঘটনা ইরানের কাছে ছিল তাদের সার্বভৌমত্বে বড় আঘাত। পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু গল্পটা সেখানেই থেমে থাকেনি। শাহের শাসনে দমন-পীড়ন চলেছে, আর সেই শাসনকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করেছে। এমন অভিযোগকেই হাতিয়ার করেছিল ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক সরকার। পরে ইরান–ইরাক যুদ্ধ চলাকালীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে সাদ্দাম হুসেইনের পাশে দাঁড়িয়েছিল বলেই দাবি করেছিল তৎকালীন ইরান সরকার। সাদ্দামের সঙ্গে পরে যুক্তরাষ্ট্র কি করেছিল তা সবাই জানে।
এত কিছুর সঙ্গে যোগ হয়েছে সামরিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক অবরোধ। যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমেরিকার প্রতি ইরানের অবিশ্বাসকে আরও জোরদার করেছে। এখন পেজেশকিয়ানের এই ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়ার মধ্যেও রয়েছে স্পষ্ট কূটনৈতিক চাল।
আরও পড়ুন- হরমুজ প্রণালী মুক্ত করার ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের, ৩৫টি দেশকে নিয়ে অভিযানে ব্রিটেন
প্রথমত, এটি ইরানের কঠোর অবস্থানকে নৈতিক স্বীকৃতি দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক আলোচনায়, রাষ্ট্রসংঘের বৈঠকে আমেরিকার উপর পাল্টা চাপ তৈরি করবে। আর তৃতীয়ত, এটি দেশের ইসলামিক রিপাবলিক সরকারের বিরুদ্ধে এতদিনের জমা ক্ষোভ ভুলিয়ে বহিঃশত্রুর আক্রমণের বিরুদ্ধে ইরানের জনগণকে একজোট করবে। তাই, পেজেশকিয়ান ইতিহাস খুঁড়ে আনলেন। দেশবাসীকে মনে করালেন, ১৯৫৩ সালের সেই ক্ষত এখনও শুকায়নি।

