‘বিচারাধীন’ তকমা ঘুচল,  বৈধ ভোটার হলেন পূর্ব বর্ধমানের শতায়ু পার শেখ ইব্রাহিম

0
36

ওয়েবডেস্ক- দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান। শেষ পর্যন্ত ‘বিচারাধীন’ তকমা ঘুচে বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন শতায়ু পার করা পূর্ব বর্ধমানের (East Burdwan) জামালপুরের (Jamalpur) বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিম (Sheikh Ibrahim) । শুধু তিনি নন, তাঁর দুই পুত্র ও পুত্রবধূর নামও সাপ্লিমেন্টারি (অতিরিক্ত) ভোটার তালিকায় বৈধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে গোটা শেখ পরিবার। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে এখন তাঁরা আগ্রহী।

জামালপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বত্রিশবিঘা গ্রামের বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিম স্থানীয় ১৩৮ নম্বর বুথের দীর্ঘদিনের ভোটার। তাঁর দাবি, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই তাঁর জন্ম। জীবনে বহু নির্বাচনেই তিনি ভোট দিয়েছেন। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও গ্রামবাসীদের কাছে তিনি অত্যন্ত সম্মানীয় ব্যক্তি।

সম্প্রতি বাংলায় এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হলে গত ২৯ জানুয়ারি তাঁকে ব্লকের বিডিও অফিসে শুনানির জন্য হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে কমিশনের প্রতিনিধিরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে নথি যাচাই করেন। তবুও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

এতে ভেঙে পড়েন শতায়ু এই প্রবীণ। তিনি আক্ষেপ করে জানান,  স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পরও কেন তাঁকে ‘বিচারাধীন’ করা হল, তা তাঁর বোধগম্য নয়। তাঁর ছেলেরাও এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ বলে কটাক্ষ করেন।

তবে অবশেষে সোমবার রাতে প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় মিলেছে স্বস্তি। সেখানে শেখ ইব্রাহিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে বসে শেখ ইব্রাহিম বলেন, “আমি স্বাধীনতা আন্দোলন দেখেছি,  দেশ স্বাধীন হতেও দেখেছি। এত বয়সে এসে নিজের নাম ‘বিচারাধীন’ দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তবে নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত সঠিক বিচার করেছে,  এতে আমি খুশি।”

আরও পড়ুন-  ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে বিজেপিকে তুলোধনা মমতার, কী বললেন শুনুন

তাঁর ছেলে শেখ রাইহান উদ্দিন ও শেখ আরেফুল ইসলাম জানান, “বাবার বয়স ১০৪ বছর। তাঁর মতো একজন প্রবীণের নাম ‘বিচারাধীন’ হওয়া আমাদের কাছে অসম্মানের ছিল। তবে এখন আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।”

এই প্রসঙ্গে জামালপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ভূতনাথ মালিক বলেন, “একজন প্রবীণ নাগরিককে এতদিন দুশ্চিন্তায় রাখা ঠিক হয়নি। শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা খুশি।”

সব মিলিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন শতায়ু শেখ ইব্রাহিম ও তাঁর পরিবার।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here