কলকাতা: আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar) লিফট দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীরে ২৫টি আঘাতের চিহ্ন মিলেছে বলে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ। এই ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
টালা থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন মৃতের বাবা অমল বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ জন লিফটম্যান ও ২ জন ইআরএস নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫/৩(৫) ধারায় (অনিচ্ছাকৃত খুন) মামলা রুজু হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রার্থী হতেই কুরুচিকর আক্রমণ! জ্যোতিপ্রিয়কে নিশানা বিজেপির
তদন্তে উঠে এসেছে, ভয়াবহ আঘাতে অরূপের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাত, পা ও পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে, একই লিফটে থাকা তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের গুরুতর চোট লাগেনি কেন?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লিফটটি প্রথমে একটি ফ্লোরে থামলে সেখান থেকে শিশুটিকে বের করে নেওয়া হয়। কিন্তু অরূপ ও তাঁর স্ত্রী ভিতরে আটকে পড়েন। সেই সময় লিফটের দুই দরজার মাঝে অরূপের শরীর আটকে যায়। আতঙ্কে তাঁর স্ত্রী লিফটের ভেতরে নিচু হয়ে বসে পড়েন। এরপরই লিফটটি আচমকা নিচে নেমে আসে। দরজার মাঝে আটকে থাকা অবস্থাতেই প্রবল অভিঘাতে গুরুতর জখম হন অরূপ—তাতেই মৃত্যু বলে প্রাথমিক অনুমান।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে স্ত্রীসহ লিফটে করে আর জি কর হাসপাতালের পাঁচতলার ট্রমা কেয়ার সেন্টারে যাচ্ছিলেন। মাঝপথে লিফট বিকল হয়ে ঝাঁকুনি দিয়ে আটকে যায় এবং পরে নিচে নেমে আসে। উদ্ধার করে বের করা হলে অচেতন অবস্থায় ছিলেন অরূপ। চিকিৎসকরা পরে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

