নির্বাচন মানে প্রতিশ্রুতির বোঝা। আজ নয় সেই কবে থেকেই। দাদাঠাকুরের ভোটের ছড়া, ‘মাছ কাটলে মুড়ো দেবো, গাই বিয়োলে দুধ দেবো, দুধ খেতে বাটি দেবো, সুদ দিলে টাকা দেবো, ফি দিলে উকিল দেবো, চাল দিলে ভাত দেবো’। কাজেই প্রতিশ্রুতি তো ভোটেরই অঙ্গ। কিন্তু সমস্যা হল এই মোদিজির প্রতিশ্রুতি নিয়ে, কারণ এমন তো নয় যে তিনি বিরোধী দলে আছেন, প্রতিশ্রুতি দেবার কথা বলছেন, বা সরকার চালাচ্ছেন, আরও বড় প্রতিশ্রুতির কথা বলছেন, না তা তো নয়। পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারে নেমে বলেছেন, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে বহু শূন্যপদ আছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র সরকার হলেই ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যে সমস্ত শূন্যপদে নিয়োগ হবে। তুলে দেওয়া সমস্ত স্থায়ী পদে দুই মাসের মধ্যে নিয়োগ, সপ্তম বেতন কমিশন ইত্যাদি নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতির বহরই বলে দেয় কতটা মিথ্যে তিনি বলছেন। উনি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলেই সমস্ত শূন্যপদে নিয়োগ করে ফেলবেন। তাহলে একটা খুব সরল প্রশ্ন করি, স্বাভাবিক প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় সরকারের যে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ আছে সেখানের নিয়োগ হচ্ছে না কেন? কে আটকাচ্ছে? কার বাবা আটকাচ্ছে? কার পিসি আটকাচ্ছে? ওনাদের তথ্য বলছে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে মোট অনুমোদিত পদ মানে মোট যত কর্মচারী নিয়োগ করা সম্ভব, তার প্রতি চারটে পদের মধ্যে একটা খালি পড়ে রয়েছে। নিয়োগ করেনি সরকার। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রক আর দফতরে মোট স্যাংসনড পোস্ট, অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৪০ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৮২। এর মধ্যে খালি পড়ে রয়েছে বা নিয়োগ হয়নি ৯ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯৩২। অর্থাৎ প্রায় ১০ লক্ষ পদ খালি পড়ে রয়েছে, নিয়োগ করছে না কেন্দ্রীয় সরকার। উনি বঙ্গালে এসে শূন্যপদ পূরণ করার কথা বলছেন। হ্যাঁ, বাংলাতে খালি পদ পড়ে আছে বৈকি। বাংলা থেকে যে অর্থ যাচ্ছে তা ফেরত আসছে না, সামাজিক প্রকল্পের বোঝা চেপেছে রাজ্য সরকারের উপর, কিন্তু অমিত শাহ কি দয়া করে বলবেন, আপনাদের ১০ লক্ষের বেশি শূন্য পদ পড়ে আছে কেন? সেগুলো কোন নির্বাচনের পরে, আর কোন ক্ষমতা পেলে পূর্ণ করা হবে? কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বেতন ভাতা বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য পেয়ে যাবেন, এই পরিসংখ্যান ২০২৩ সালের ১মার্চ পর্যন্ত। মজার কথা হল কেন্দ্রীয় সরকারের শূন্যপদ নিয়ে এর পরে আর কোনও তথ্যই দেয়নি মোদী সরকার। গত বছর জুলাই মাসে সংসদে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সরকার নির্দিষ্ট করে কোনও সংখ্যা না জানিয়ে কার্যত সেই ২০২২-২৩ সালের পুরানো তথ্যই দিয়েছেন, তার মানে এখন অবস্থা আরও খারাপ। এতটাই খারাপ যে, ওনাদের জানাতে লজ্জা হচ্ছে।
আচ্ছা এই যে অমিত শাহ, রোজ বলছেন ‘বেকারে ভরে গিয়েছে বঙ্গাল’, তো তাঁর নিজের মন্ত্রকের অবস্থাটা কী? অর্থ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য বলছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতায় মোট ১১ লক্ষ ১২ হাজার ৮৪১টা পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১ লক্ষ ২৮ হাজার ২১০টা পদ খালি পড়ে রয়েছে। এই একদা তাড়িপারের আওতায় আছে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনী যার তলায় বিএসএফ, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি, অসম রাইফেলস, এসএসবি এবং এনএসজি রয়েছে, সেখানেই ১ লক্ষ ৪ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। যা দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু এনএসজি-তেই ১৩৪৮টা পদ খালি রয়েছে। এখানে নির্বাচনের আগে এসে খালি পদের বাওয়াল দিচ্ছেন অমিত শাহ। আরও আছে। ভারতের সরকারি ক্ষেত্রে এমপ্লয়মেন্টের সবচেয়ে বড় জায়গা হল ভারতীয় রেল। অর্থ মন্ত্রকের অ্যানুয়াল রিপোর্ট অন স্যালারি অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্স, পে রিসার্চ ইউনিটের ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের প্রতিবেদন বলছে, রেল মন্ত্রকে মোট পদ আছে ১৪ লক্ষ ৮৯ হাজার ৩৯৬টা। সেখানে নিয়োগ হয়েছে ১১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩৩৯টা পদে। মানে কেবল রেলেই শূন্যপদ পড়ে রয়েছে ৩ লক্ষের বেশি। কবে সেই শূন্য পদে লোক নেওয়া হবে? এতদিন পড়ে আছে কেন? প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অসামরিক ক্ষেত্রে শূন্যপদ রয়েছে ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৮৯টা। এই ক্ষেত্রে মোট কর্মী নিয়োগের সুযোগ আছে ৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৩৯ জন। সেখানে নিয়োগ হয়েছে মাত্র ৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৬৫০ জন। গোটা দেশেই ডাক ব্যবস্থা ধুঁকছে কর্মী সংকোচনের জেরে। ডাক বিভাগে মোট স্যাংশনড পোস্টের সংখ্যা ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৬৭১টা, সেখানে কাজ করছেন কতজন? ১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৪১২ জন। মানে শূন্যপদের সংখ্যা ৭৩ হাজার ২৫৯। রাজস্ব বিভাগের ১লক্ষ ৭৯ হাজার ১৩২টা অনুমোদিত পদের মধ্যে শূন্যপদের সংখ্যা ৭২ হাজার ৪৪৭। এবারে একটা পুরো ছবি তুলে ধরা যাক। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় এলেন, বিজেপির পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা, হ্যাঁ, যা এই রাজ্যে পেলে ওনারা নাকি রাজ্যের সব খালি পদে নিয়োগ সেরে ফেলবেন, অন্তত অমিত শাহ সেটাই বলেছেন। তো মোদিজির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার কী করেছে? অর্থ মন্ত্রকের অ্যানুয়াল রিপোর্ট অন স্যালারি অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্স, পে রিসার্চ ইউনিটের ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষের হিসেব অনুযায়ী সেই সময়ের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ছিল ৩৬ লক্ষ ৪৫ হাজার ৫৮৪টা। শূন্যপদ ছিল ৪ লক্ষ ২১ হাজার ৬৫৮টা। মানে যদি শতাংশের হিসেব করা যায় তাহলে অনুমোদিত পদের হিসেবে শূন্যপদের হার ছিল ১১.৫৭ শতাংশ। পাঁচ বছর মোদি সরকারের শাসনের পরে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের হিসেবে অনুমোদিত পদের হিসেবে শূন্যপদের হার বেড়ে দাঁড়ায় ২১.৭৫ শতাংশ। সেই সময়ে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ছিল ৪০ লক্ষ ৭৭ হাজার ৬৮৭টা। এর মধ্যে নিয়োগ হয়নি, এমন পদ ছিল ৮ লক্ষ ৮৬ হাজার ৭৮৪টা। আর ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এসে অনুমোদিত পদের হিসেবে শূন্যপদের হার আরও বেড়ে দাঁড়ায় ২৪.২১ শতাংশ। অর্থাৎ চার জন কর্মী পিছু প্রায় একটা পদ শূন্য রয়েছে কেন্দ্রে। ওই সময়ে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৪০ লক্ষ ৩৯ হাজার ৮৮২টা। শূন্যপদ রয়েছে ৯ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯৩২টা। তার মানে মোদি সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখিয়েই বলা যায়, আগের ইউপিএ সরকারের তুলনায় বিজেপি সরকার আসার পরে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগের হার অনেক কমেছে। শূন্যপদের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুনের বেশি। আর কেন্দ্রের দেওয়া এই হিসেবের পরেও তিন তিনটে অর্থবর্ষ পার হয়ে গিয়েছে। ঠিক এই মুহুর্তে কেন্দ্রীয় সরকারে শূন্য পদের সংখ্যা ১০ লক্ষের বেশি, কিন্তু অমিত শাহ বলছেন বাংলাতে ক্ষমতায় এলেই নাকি এই রাজ্যের শূন্য পদ ভরে দেবেন।
আরও পড়ুন: Fourth Pillar | এবার বিজেপির বিদায়
ত্রিপুরার কী হাল? সেখানে শুন্য পদে স্থায়ী চাকরি ছেড়েই দিন, এমনিতেই স্থায়ী চাকরির পাট তুলে দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে প্রতিটা দফতরে ২০ শতাংশ কন্ট্রাকচুয়াল ওয়ার্কার নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। আর এ রাজ্যে ভোট আসছে, সেই ভোটের বাজারে আবারও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে ‘বিকশিত ভারত’ শিরোনামে বিজ্ঞাপনে ভেসে উঠছে। কর্মসংস্থানে তরুণ প্রজন্মের ঝকঝকে ছবি, মোদিজি চাকরি বিলোচ্ছেন। আমরা কিন্তু ভুলিনি, বছরে ২ কোটি চাকরির স্বপ্ন ফেরির সেই হাঁকডাক, সভায় সভায় ভাষণ। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নরেন্দ্র মোদির পরের পর ‘মেগা-প্রজেক্ট’ ঘোষণা করেছে। সেই সব প্রকল্পের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ বা ‘স্মার্ট সিটি’। প্রতিটা প্রকল্পের সূচনা করেছেন মোদিজি নিজে, ধোপ দুরস্থ জামাকাপড় পরে, একই অনুষ্ঠানেও দু’বার পোশাক বদলিয়ে, চোখে কার্টিয়েরের চশমা, পকেটে ম ব্লাঁ পেন, আর জমকালো অনুষ্ঠান, গ্রাফিক্সের কারুকাজ মোদিজির সামনের টেলিপ্রম্পটারে এক উজ্জ্বল ভারতের স্বপ্ন। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই সব স্বপ্ন অধিকাংশই মাঝপথে পথ হারিয়েছ, লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, বা সেসব প্রকল্পের কথা আর কেউ মুখেও আনছে না। এই ব্যর্থতার মিছিলে সর্বশেষ আর সম্ভবত সবচেয়ে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে ‘প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ স্কিম’ (PMIS)। যেখানে ৫ বছরে ১ কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের এক বিশাল টার্গেটের কথা নিজের মুখে জানিয়েছিলেন মোদিজি। তথ্য বলছে, মাত্র ৯৫ জন যুবক শেষ পর্যন্ত চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন। হ্যাঁ, মাত্র ৯৫ জন। এটা ফাজলামো? এটা অপদার্থতা? এটা বাচালতা? এটা বেকারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তামাশা? কোনটা? মোদি সরকারের মানে উনিজির ঘোষিত প্রকল্পগুলোর একটা সাধারণ বৈশিষ্ট্যই হলো সেগুলোর বিশালতা বা ‘স্কেল’। মানে, ‘মারি তো গন্ডার লুটি তো ভান্ডার’, গোয়েবলসের ‘বিগ লাই’-এর তত্ত্ব। এত্ত বড় মিথ্যে বলো যে, মানুষ তা বুঝেই উঠতে পারবে না। এক কোটি বেকারের চাকরি হবে, আপনি ভাববেন গুল দিলেও ৫০ লাখের তো হবে তাই বা কম কী? কারণ মোদি সরকার বিশ্বাসই করে যে বড় ঘোষণা মানেই বড় পরিবর্তন। ক’দিন পরে এই প্রকল্পগুলো ‘নাথবতী অনাথবৎ’ হয়ে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে, মোদিজি আবার নতুন ঢপবাজিতে নেমে পড়েন।
কেন্দ্রের শ্রম মন্ত্রক ও জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের (এনএসও) সমীক্ষার দিকে চোখ রাখুন, নতুন কর্মসংস্থানের গতি কমার প্রবণতা স্পষ্ট। শ্রম মন্ত্রকের ইএসআই রিপোর্ট বলছে, ২৫ বছরের নিচে যুব শ্রমিকদের নতুন নিয়োগ গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৯.৬ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ২২.৫ লক্ষ নতুন নিয়োগ পেয়েছিলেন, চলতি জুলাইয়ে সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ২০.০৩ লক্ষে। নতুন নিয়োগের মোট হারও নেমে এসেছে ৪৮.৩৭ শতাংশে। একই সময়ে ইএসআইতে ৩১,১৪৬টা নতুন সংস্থা নথিভুক্ত হলেও কর্মী নিয়োগের হার বাড়েনি। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পেও নিয়োগের হার ক্রমশ কমছে। ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে মোট কর্মচারী সংখ্যা ছিল ১৭.৩ লক্ষ। ২০২২ সালে সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.৬৬ লক্ষে। মানে মোদির এক দশকে প্রায় আড়াই লক্ষ কর্মী কমেছে। সিএমআইই-র তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী নিয়োগ কমে যাওয়ার ফলে এক দশকে কর্মসংস্থান তৈরির হার ৪২.৮ শতাংশ থেকে কমে ৩৭.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এই মোদি-শাহ মন্ত্রিসভারই ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রী শোভা করণডালজে জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে দেশে লক্ষাধিক ছোট ও মাঝারি শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে প্রায় ৭ লক্ষ ৮০ হাজার ৮৩৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী কাজ হারিয়েছেন। সেই বন্ধগুলো হয়েছে কোথায়? বিজেপি শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্রে বন্ধ হয়েছে প্রায় ২৯ হাজার শিল্প, রাজস্থানে ৯ হাজার, উত্তরপ্রদেশে ৬ হাজার, গুজরাতে ১০ হাজার এবং মধ্যপ্রদেশে প্রায় ৫ হাজার। অর্থাৎ, দেশে মোট বন্ধ শিল্পের অর্ধেকেরও বেশি বিজেপি-শাসিত রাজ্যেই। মানে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার বলে যা চালানো হয়, তা এক্কেবারে ফাঁকা কলসি। মোদি ক্ষমতায় আসার সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় স্থায়ী কর্মীর হার ছিল প্রায় ৪২ শতাংশ, যা এখন কমে প্রায় ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তার জায়গায় কম মজুরির চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৪ সালে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের উদ্বোধন করে মোদিজি বলেছিলেন, ভারত বিশ্বের পরবর্তী ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হয়ে উঠবে। প্রকল্পের লোগো ছিল একটা যান্ত্রিক সিংহ, যা নাকি ভারতের শিল্পশক্তির প্রতীক। মোদিজির বয়ানে তিনটে প্রধান লক্ষ্য ছিল: ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের বার্ষিক বৃদ্ধির হার ১২-১৪ শতাংশে নিয়ে যাওয়া, ২০২২ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১০ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করা, আর জিডিপিতে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের অবদান ২৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। এক দশক পরে এসে দেখা যাচ্ছে, সিংহের গর্জন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। জিডিপিতে ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদন খাতের অংশীদারিত্ব বাড়ার বদলে বরং কমেছে। ২০১৩-১৪ সালে এটা ছিল ১৬.৭ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১৫.৯ শতাংশে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কোনও পরিবর্তন আসেনি। ২০১১-১২ সালে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থান ছিল ১২.৬ শতাংশ, যা গত এক দশকে ক্রমাগত নীচে নেমেছে। আইএলও (ILO)-এর ‘ইন্ডিয়া এমপ্লয়মেন্ট রিপোর্ট ২০২৪’ বলছে ‘স্থবির কাঠামোগত রূপান্তর’ মানে সব থমকে গিয়েছে, যেখানে মানুষ কৃষি থেকে বেরিয়ে শিল্পে যোগ দেওয়ার বদলে হয় অসংগঠিত পরিষেবা ক্ষেত্রে ঢুকছে বা আবার কৃষিতেই ফিরে যাচ্ছে।
প্রত্যেক স্বৈরশাসকেরাই দেশে এক অশিক্ষিত বেকার যুবকের বাহিনী তৈরি করতে চায়, বিজেপিও তার ব্যতিক্রম নয়, সেই বেকার বাহিনীরাই ভক্ত হয়, ক্যাডার হয়, যারা বলে, ‘গ্যাসের দাম বাড়ুক, আমরা মোদিজিকেই ভোট দেবো’, তারা বলে, ‘চাকরি পাই আর না পাই, মোদিজিই আমাদের নেতা’। হ্যাঁ, এটাই দস্তুর। কিন্তু সেই হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সংদের একটা এক্সপায়ারি ডেট আছে, সেই হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সংরাও একটা সময়ে এসে বুঝতে পারে তাদেরকে বোকা বানানো হচ্ছে, সেদিনটাও খুব দূরে নয়।
দেখুন আরও খবর:

