গ্যাসের আকাল, স্কুলে স্কুলে মিড ডে মিলের রান্না কাঠের জ্বালানিতে

0
30

ওয়েব ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ভারতেও আঁচ মধ্যবিত্তের হেঁসেলে। এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়েছে রান্নার গ্যাস। দাম বেড়েছে বাণিজ্যিক গ্যাসেরও। বাড়ানো হয়েছে অটো এলপিজি গ্যাসের দামও। সরবরাহ-সঙ্কটের প্রভাব পড়ছে কলকাতা থেকে জেলায় জেলায়। বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম দ্বিগুণ, জ্বালানির অভাবে দেখা দিয়েছে বসিরহাটেও (Basirhat)। এলপিজির গ্যাস কোপ পরলো এবার স্কুলের মিড ডে মিলে। এলপিজি গ্যাস সংকট (Gas Cylinder Crisis) মিড ডে মিলের (Mid Day Meal) রান্না কাঠের জ্বালানিতে হচ্ছে। সেখানে ৩ হাজার অটো চলে তার জায়গায় ৫০০ অটো চলছে।

বসিরহাট মহকুমা সীমান্ত থেকে সুন্দরবনের একাধিক স্কুল গ্যাসের পরিবর্তে কাঠের জলে রান্না করছে মিড ডে মিল কর্মীরা বসিরহাটের সাইপালা প্রাথমিক বিদ্যালয় এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে ১ হাজারেরও অধিক। আর সেখানেই সকাল থেকে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ করে শিশুশানি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত মিড ডে মিলের রান্না হচ্ছে কাঠের জালে। জ্বালাপোড়া গরমেরপ মধ্যে আগুনের তাপে মিড ডে মিলের কর্মীরা শিশুদের খাবারের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। তার উপরে কাঠের জ্বালানির দাম বাড়ছে দ্বিগুণ। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনও ভাবেই রান্নার গ্যাসের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করা যাবে না। তবু কেন এই অবস্থা? কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে।

আরও পড়ুন: আলিপুরদুয়ারে বিজেপি নেতাদের বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা! শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে

স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিলয় সরকার তিনি বলেন সরকার যেখানে বলছে মিড ডেবিল চালু রাখতে গ্যাসের পরিবর্তে কাজের জাল করছি গ্যাসের পর্যাপ্ত সাপ্লাই নেই। তা সত্ত্বেও শিশুরা যাতে মিড ডে মিল থেকে বঞ্চিত না হয় তার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। মিড ডে মিল কর্মী পাপড়ি দে বলেন, গ্যাসে রান্না হয় বলে কাঠ রাখা হয় না বাচ্চাদের তো খাওয়াতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে কাঠের রান্না করছি। এরপরে গ্যাস যদি না হয় তাহলে হয়তো মিড ডে মিল বন্ধ হতে পারে কারণ কাঠের জ্বালানির যোগান আমরা চাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে মিড ডে মিল থেকে বঞ্চিত না হয় আগের মতই গ্যাস যেন সাপ্লাই হোক।

একই ছবি ধরা পড়েছে দক্ষিণ ২৫ পরগনার সাতগাছিয়া এলাকায়। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় সমস্যার মুখে বিভিন্ন স্কুল। সাতগাছিয়া বিধানসভার বজবজ ২ নম্বর ব্লকের চকদৌলত সাহেবানবাগিচা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শেষ হয়ে গিয়েছে রান্নার গ্যাস। ফলে মিড ডে মিল রান্না করতে সমস্যায় পড়ছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। রান্নার গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে উনুন জ্বালিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। মিড ডে মিল যাতে বন্ধ না থাকে সেই কারণে উনুন চালিয়ে রান্না করা হচ্ছে। এছাড়াও গ্যাস বুকিং নিয়ে হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সেই কারণে মহেশতলায় উনুন জ্বালিয়ে রান্না করছেন বাড়ির মহিলারা। গ্যাস শেষ হওয়ার পরে বুকিং করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here