ওয়েব ডেস্ক : চোরবাগান (Chorbagan Incident) সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার পর শহরের বাকি পুজোগুলির নিরাপত্তা নিয়ে তৎপর রাজ্য প্রশাসন। আর কোন পুজো মণ্ডপে রয়েছে অব্যবস্থা? কোথাও কি ভিড় নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে? এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে বিশেষ দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শহরের জনপ্রিয় পুজোগুলিতে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে এই দল।
রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব রাজেশ সিনহা, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিমের নেতৃত্বে বিশেষ দলটি কাজ করবে। কলকাতা পুলিশও এই কাজে সহায়তা করবে। পরিদর্শনের পর স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে প্রশাসন।
আরও খবর : চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু একই পরিবারের তিনজনের, আরামবাগের বালিয়ায় শোকের ছায়া
পুজোর এখনও অষ্টমী, নবমী ও দশমী বাকি। এই দিনগুলিতে শহরের বিভিন্ন মণ্ডপে বিপুল ভিড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই কয়েকদিন শহরের প্যান্ডেলগুলিতে ভিড় হতে পারে বলে আশঙ্কা। ফলে এই কটা দিন শহরের পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেছেন, বলেন, ” পুজোর বাকি দিনগুলিতে যাতে চোরবাগানের মতো পরিস্থিতি নতুন করে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে তৎপর পুলিশ-প্রশাসন। সবাইকে কটা দিন সতর্ক থাকতে হবে।”
পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে নির্দেশ বা সুপারিশ করা হবে, তা মেনে চলতে হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রেখে শুধুমাত্র পুরোহিতের মাধ্যমে পুজো ও সংকল্প করার পরামর্শও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী, ভিড় সামলানো কঠিন হলে দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ বন্ধ রেখে বাইরে এলইডি পর্দায় প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা করার কথাও বলেছেন তিনি। চোরবাগানের মতো দুর্ঘটনা যাতে শহরের অন্য কোনও পুজো মণ্ডপে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপের পরামর্শ।
বলে রাখা দরকার, সপ্তমীতেই শহরে বড় বিপর্যয় ঘটে গিয়েছে। ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃত ১৯। আহত অন্তত ১৫। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
