ওয়েব ডেস্ক : এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (ইপিএস)-এর যোগ্যতার নিয়মাবলি স্পষ্ট করল প্রভিডেন্ট ফান্ড সংস্থা বা ইপিএফও (EPFO)। বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আসার মাসিক বেতনসীমা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এটি। এর ফলে নতুন করে বহু কর্মী সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসতে পারেন। তবে বেতনসীমা বাড়লেও প্রত্যেক কর্মী যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর্মচারীদের পেনশন প্রকল্পের সদস্য হতে পারবেন, তা নয়।
ইপিএফও (EPFO)-র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মাসিক বেতন ২৫ হাজার টাকা বা তার কম হলে কর্মীরা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে কর্মচারীদের পেনশন প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। তবে যাঁদের বেতন ২৫ হাজার টাকার বেশি এবং যাঁরা আগে এই পেনশন প্রকল্পের সদস্য ছিলেন না, তাঁরা নতুন করে সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবেন না বলে ব্যাখ্যায় জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু বেতনের অঙ্ক দেখেই পেনশনের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মীর আগের সদস্যপদ এবং প্রকল্পের নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন বেতনসীমা কার্যকর হওয়ার পর কর্মীদের নিজেদের যোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
আরও খবর : মোদি সরকারের ২০০ অফিসার আমাদের খবর দিচ্ছেন, ইডি-সিবিআইয়েও চর আছে দাবি রাহুলের
কত বাড়বে পেনশনে নিয়োগকর্তার অবদান?
নতুন বেতনসীমার ফলে পেনশনযোগ্য বেতনের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ায় নিয়োগকর্তার পেনশন অবদানের সর্বোচ্চ পরিমাণও বাড়তে পারে। ৮.৩৩ শতাংশ হারে হিসাব করলে মাসিক ১৫ হাজার টাকার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অবদান ছিল ১,২৫০ টাকা। বেতনসীমা ২৫ হাজার টাকা হলে সেই অঙ্ক বেড়ে প্রায় ২,০৮৩ টাকা হতে পারে। তবে এই পরিমাণ প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। প্রকৃত অবদান নির্ভর করবে কর্মীর যোগ্যতা, পেনশনযোগ্য বেতন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের উপর। নিয়োগকর্তার এই অবদান তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত মোট অবদানের অংশ। এটি কর্মীর বেতন থেকে অতিরিক্ত কেটে নেওয়া হয় না।
কী কী সুবিধা মিলবে?
যোগ্য কর্মীরা কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, কর্মচারীদের পেনশন প্রকল্প এবং আমানত-সংযুক্ত বিমা প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। প্রভিডেন্ট ফান্ড অবসরকালীন সঞ্চয়ে সাহায্য করে। পেনশন প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পেনশনের সুবিধা মেলে। অন্যদিকে, আমানত-সংযুক্ত বিমা প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী বিমার সুবিধা দেওয়া হয়।
পেনশন অবদান জমা না পড়লে কী করবেন?
কোনও কর্মীর মনে হলে যে তাঁর প্রাপ্য অবদান জমা পড়ছে না, তা হলে প্রথমে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাতেও সমস্যার সমাধান না হলে ইপিএফও-র অনলাইন অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা ইপিএফআইজিএমএসের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যায়। অভিযোগ জানানোর সময় বেতনের নথি, চাকরির বিবরণ এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত তথ্য কাছে রাখা উচিত।
