ওয়েব ডেস্ক: ককপিটে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর জখম হয়েও যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। তাঁর সেই সাহসিকতার প্রশংসা করতে এ বার হাসপাতালে গিয়ে দেখা করলেন দুবাইয়ের যুবরাজ তথা সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম।
আবু ধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্মিত। শনিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করেন দুবাইয়ের যুবরাজ। ককপিটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হওয়ার পরেও স্মিত যে ভাবে পরিস্থিতি সামলেছিলেন, তাঁর দায়িত্ববোধ ও সাহসের প্রশংসা করেন যুবরাজ। হাসপাতালে গিয়ে স্মিতকে অভিবাদন জানান এবং আলিঙ্গনও করেন তিনি। দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ কথাও হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার সকালে। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে যাত্রী ও বিমানকর্মী মিলিয়ে ছিলেন মোট ১৮২ জন। অভিযোগ, বিমানের ককপিটে স্মিতের উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন তাঁর সহ-পাইলট। গুরুতর আহত অবস্থাতেও কোনও রকমে ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত। এর পরেই যাত্রীরা হামলাকারীকে ধরে ফেলেন।
স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ একাধিক রাষ্ট্রনেতা। তাঁকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মিতের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন শেখ হামদান। সেখানে ভারতীয় পাইলটের সাহস, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের জীবন বাঁচানোর তাগিদের প্রশংসা করেন তিনি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রশাসনের তরফে স্মিতের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন যুবরাজ। তাঁর কথায়, স্মিতের এই ভূমিকা তাঁদের কাছে গর্বের।
এ দিকে, ঘটনার তিন দিন পর শনিবার প্রথম বার বিবৃতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ককপিটে হামলার ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইজ়রায়েলও ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে দাবি করেছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য, অভিযুক্ত উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত ছিলেন এবং বিমান ধ্বংস করে ইজ়রায়েলি নাগরিকদের হত্যা করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।
