ওয়েব ডেস্ক : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লির (Delhi) যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। গান্ধী জয়ন্তীর দিন ছাত্র-যুব সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ আগে থেকেই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। এরপরও আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে যন্তর মন্তরের দিকে পৌঁছনোর চেষ্টা করলে তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ৭০০-র বেশি বিক্ষোভকারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ১১০০-র বেশি বলেও দাবি করা হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ছিলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতীশী, আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সাংসদ সঞ্জয় সিং এবং সঞ্জীব ঝা। ছাত্র সংগঠন আইসার নেত্রী নেহা বোরা-সহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন। তাঁদেরও একাংশকে আটক করে পুলিশ।
আরও খবর : হাইওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ট্রাকের ধাক্কায় মৃত ৭ পুণ্যার্থী
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই বিক্ষোভ দেখানো হয়। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন এই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল করার লক্ষ্যেই সংশোধন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
তবে এদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকেই মধ্য দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসিয়ে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিক্ষোভের প্রভাব পড়ে যান চলাচলেও। এদিন সকালে আপ কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পর সৌরভ ভরদ্বাজকে আটক করা হয়। পরে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছন অতীশী ও সঞ্জয় সিং। তাঁদেরও পুলিশ হেফাজতে নেয়। নেহা বোরা-সহ ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের আটক করার ঘটনাও সামনে আসে।
