ওয়েব ডেস্ক : ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের ইসিআইনেট (ECINET) সফটওয়্যার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠল। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সফটওয়্যার নির্ভর হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে কমিশনের অন্দরেই আপত্তি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসিআইনেটে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি ইআরও-দের আরও স্বাধীনতা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (Election Commission) চিঠি দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এস চোকলিঙ্গম।
চিঠিতে মূলত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এসআইআরের সময় পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনও ভোটারের বয়স কিংবা বাবা-মায়ের নামের তথ্য না মিললে তা অসঙ্গতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইআরও-দের হাতে আরও ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
আরও খবর : স্কুল চত্বরেই দম্পতিকে কুপিয়ে খুন! উত্তরপ্রদেশে চাঞ্চল্য, তদন্তে পুলিশ
শুধু তথ্যের অমিল নয়, শুনানির ক্ষেত্রেও ইআরও-দের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর দাবি তোলা হয়েছে। কোনও ভোটার বয়স, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনও বাস্তব কারণে শুনানিতে হাজির হতে না পারলে তাঁকে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তও সফটওয়্যারের নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে ইআরও-দের হাতে থাকা উচিত বলে প্রস্তাব করা হয়েছে চিঠিতে।নির্ধারিত ১৩টি নথি নিয়ে সমস্যার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গৃহহীন, ভবঘুরে কিংবা যৌনকর্মীদের মতো কিছু ভোটারের কাছে ওই নথিগুলি নাও থাকতে পারে। তাই প্রয়োজনে অন্য প্রাসঙ্গিক নথি গ্রহণের সুযোগ রাখার আবেদন জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
উল্লেখ্য, সদ্য ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ একটি বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ও তাঁদের আপত্তির মধ্যে ছিল। তার পরেই নাকি কমিশনকে এই চিঠি লিখেছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এস চোকলিঙ্গম।
