ওয়েব ডেস্ক : পাঞ্জাবের (Punjab) লভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা LPU-তে ধর্ষণের গুজবকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা আরও বাড়ল প্রশাসনের প্রকাশ করা একটি ভিডিও ঘিরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি ছিল, গুজবের কোনও ভিত্তি নেই। সেই অবস্থান বোঝাতে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন রেজিস্ট্রার ড. মনিকা গুলাটি। সেখানে গার্লস হস্টেল ৩-এর ৫০৪ নম্বর ঘরে থাকা তিন পড়ুয়াকে দিয়ে জানানো হয়, তাঁদের ঘরে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।
ভিডিওতে ওই তিন পড়ুয়া দাবি করেন, তাঁরা বেশ কিছুদিন ধরে ওই ঘরে রয়েছেন। সেখানে কোনও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ ও অন্যান্য পড়ুয়াদের তাঁদের বিরক্ত না করার আবেদনও জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে পরে দাবি করা হয়, পুরো ঘটনার পিছনে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানকে বদনাম করার চেষ্টা রয়েছে।
আরও খবর : ‘শুধু সহমর্মিতা যথেষ্ট নয়’, দিল্লি-এনসিআর ধর্ষণ মামলায় কড়া সুপ্রিম কোর্ট
কিন্তু এরপরই সামনে আসে আরও একটি ভিডিও। সেখানে একই তিন পড়ুয়ার দাবি, প্রশাসনের তরফে তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু কথা বলতে বলা হয়েছিল। তাঁদের বক্তব্যের একটি অংশ কেটে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন পড়ুয়ারা। ফলে প্রশাসনের প্রথম ভিডিও নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই LPU ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতি করার পাশাপাশি আগুনও লাগান বলে অভিযোগ। জালন্ধর-ফাগওয়ারা জাতীয় সড়কও অবরোধ করা হয়। পুলিশের দাবি, সংঘর্ষের ঘটনায় চার-পাঁচটি পুলিশ গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জাতীয় সড়কের অবরোধ পরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এক পড়ুয়া অভিযোগ করেছিলেন যে ক্যাম্পাসে এক তরুণী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে পুলিশের বক্তব্য, প্রথম দিকে এই ধরনের কোনও অপরাধের খবর তাদের কাছে ছিল না। পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পড়ুয়াদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে LPU-তে ১০ দিনের জন্য ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মিডটার্ম পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
