কলকাতা: নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাধু-সন্তদের অপমানের প্রসঙ্গ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, সাধু-সন্ত ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অপমানের ঘটনা আর বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান প্রশাসন ‘টিকা, শিখা, ধুতি ও তুলসীর সুরক্ষাকারী সরকার’।
বাঙ্গুর জাগরণ মঞ্চ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এবং সনাতন সংস্কৃতি সংসদের যৌথ উদ্যোগে এই ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই আগামী দিনের একটি বড় ধর্মীয় কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী ২৯ ডিসেম্বর ব্রিগেডে ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের আয়োজন করা হবে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আরএসএসের সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়াও আগামী বছরের জানুয়ারিতে গঙ্গাসাগর এবং ব্রিগেডকে ঘিরে আরও একটি ধর্মীয় কর্মসূচির কথা জানান তিনি। তাঁর দাবি, জগৎগুরু স্বামী রামভদ্রাচার্য ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান করবেন এবং ১৬ থেকে ২৪ জানুয়ারি ব্রিগেডে ১০০০ কুণ্ডের ধর্মসভার নেতৃত্ব দেবেন।
সম্প্রতি লিলুয়ায় বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছিল। পাশাপাশি ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে মানুষকে আরও প্রকাশ্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠান থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভা নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। শনিবারের সেই সভায় ‘আজাদি’ স্লোগান ওঠার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর দাবি, ১৯৪৭ সালেই ভারত স্বাধীন হয়েছে।
তবে শুভেন্দুর বক্তব্যের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অংশ নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন মত রয়েছে। অনুষ্ঠানে ঘোষিত আগামী কর্মসূচিগুলির বাস্তবায়ন নিয়েও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
