ওয়েব ডেস্ক : সন্তান ঠিকমতো খাচ্ছে না, বয়স অনুযায়ী ওজনও কম, এমন চিন্তা অনেক অভিভাবকের। আবার এমন শিশুও রয়েছে, যাদের ওজন বয়সের তুলনায় বেশি হলেও উচ্চতা সেই অনুপাতে বাড়ে না। ফলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির (Child Height) ক্ষেত্রে ওজন এবং উচ্চতা, দুইয়ের দিকেই নজর রাখা জরুরি।
ছেলে ও মেয়েদের উচ্চতা বৃদ্ধির সময় এক নয়। সাধারণত ছেলেদের ক্ষেত্রে কিশোর বয়স (১৮ থেকে ২০) পর্যন্ত উচ্চতা বাড়তে থাকে। বয়ঃসন্ধির সময় বৃদ্ধির গতি সবচেয়ে বেশি হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রেও বয়ঃসন্ধিতে উচ্চতা দ্রুত বাড়ে। তবে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর অনেকের উচ্চতা বৃদ্ধির গতি ধীরে ধীরে কমে আসে। অবশ্য সব শিশুর ক্ষেত্রে একই সময় বা একই গতিতে উচ্চতা বাড়বে, এমনটা নয়।
আরও খবর : গণেশ চতুর্থী ২০২৬ কবে? কলকাতায় পুজোর শুভ সময় জানুন, থাকল তিথি ও পুজোর নিয়ম
শিশুর উচ্চতার ক্ষেত্রে বংশগত বৈশিষ্ট্যেরও ভূমিকা রয়েছে। বাবা-মায়ের শারীরিক গঠনের প্রভাব সন্তানের উচ্চতায় পড়তে পারে। পাশাপাশি শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি থাকলেও স্বাভাবিক বাড়বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং জিঙ্কের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি হলে হাড়ের গঠন ও বৃদ্ধিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু পুষ্টির ঘাটতিই নয়, গ্রোথ হরমোনের সমস্যা, থাইরয়েডের অসুবিধা কিংবা কিডনির মতো কোনও দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকলেও শিশুর বাড়বৃদ্ধির গতি কমে যেতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, সমস্যা যেমনই হোক না কেন সঠিক খাওয়াদাওয়া ও নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম অভ্যাস করালে শিশুর বৃদ্ধি ঠিকমতো হবে।
শিশুর জন্য কয়েকটি সহজ ব্যায়াম
স্কিপিং
দড়ি নিয়ে লাফানোর অভ্যাস শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। এতে পায়ের পেশিরও ব্যায়াম হয়। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তার ফলে শিশুর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সুবিধা হতে পারে।
ঊর্ধ্ব তাড়াসন
প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। দুই পায়ের মধ্যে সামান্য ফাঁক রাখতে হবে। এরপর দুই হাত মাথার উপর তুলে আঙুলগুলি পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে নিতে হবে। হাত উপরের দিকে টানার সঙ্গে সঙ্গে গোড়ালি মাটি থেকে তুলে পায়ের আঙুলের উপর ভর রাখতে হবে। কিছুক্ষণ এই অবস্থায় থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ফিরে আসতে হবে।
বাটারফ্লাই ভঙ্গি
মাটিতে বসে দুই পায়ের পাতা একে অপরের সঙ্গে লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর হাত দিয়ে পায়ের পাতা ধরে হাঁটু দুটিকে ধীরে ধীরে ওঠানামা করাতে হবে। এই ব্যায়াম পায়ের পেশির নমনীয়তা ও শক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
শশঙ্গাসন
প্রথমে হাঁটু মুড়ে আরাম করে বসতে হবে। পিঠ সোজা রেখে দুই হাত হাঁটুর উপর রাখতে হবে। এরপর শ্বাস নিতে নিতে দুই হাত মাথার উপরে তুলতে হবে। শ্বাস ছাড়ার সময় ধীরে ধীরে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে মাথা হাঁটুর কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে। দুই হাত সামনে প্রসারিত থাকবে। কিছুক্ষণ এই অবস্থানে থাকার পর ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে হবে।
