ওয়েব ডেস্ক : বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেলেই স্ত্রীর খোরপোশ পাওয়ার অধিকার শেষ হয়ে যায় না। স্বামী একতরফাভাবে বিবাহবিচ্ছেদ পেলেও, স্ত্রী পুনর্বিবাহ না করা পর্যন্ত এবং নিজের ভরণপোষণ চালাতে অক্ষম হলে নির্দিষ্ট আইনি শর্তে খোরপোশ দাবি করতে পারেন। সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এমনই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা সমর পাল ও জ্যোৎস্না পালের বিয়ে হয়েছিল ১৯৯৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। এক ছেলে জন্মায় ১৯৯৬ সালে এবং মেয়ে জন্মায় ১৯৯৯ সালে। পরবর্তীতে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। ২০১৮ সালে জ্যোৎস্না স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর ২০২২ সালের ২০ জুন তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
আদালত অন্তর্বর্তীভাবে তাঁকে মাসে ১,৫০০ টাকা এবং মেয়ের জন্য ২,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। অর্থাৎ মোট মাসিক খোরপোশের পরিমাণ ছিল ৩,৫০০ টাকা। পরে বিবাহবিচ্ছেদের পরও এই খোরপোশের মামলা চলতে থাকায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সমর পাল।
হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারায় ‘স্ত্রী’ বলতে এমন মহিলাকেও বোঝানো হয়েছে, যাঁকে স্বামী বিবাহবিচ্ছেদ দিয়েছেন কিন্তু যিনি এখনও পুনর্বিবাহ করেননি। ফলে শুধুমাত্র বিবাহবিচ্ছেদের কারণ দেখিয়ে প্রাক্তন স্ত্রীর খোরপোশের দাবি বাতিল করা যায় না। প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ হলে তাঁর খোরপোশের অধিকার বহাল থাকবে।
তবে প্রাপ্তবয়স্ক কন্যার ক্ষেত্রে আলাদা সিদ্ধান্ত নিয়েছে আদালত (Calcutta High Court)। এই মামলায় সমর পালের মেয়ে ২০১৯ সালে খোরপোশের আবেদন করার আগেই সাবালক হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কোনও শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতাও ছিল না। তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারার অধীনে তাঁর খোরপোশের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত অবশ্য স্পষ্ট করেছে, হিন্দু অ্যাডাপশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অ্যাক্টের ২০(৩) ধারায় সিভিল কোর্টের মাধ্যমে ওই কন্যা পৃথক আইনি প্রতিকার বা খোরপোশ চাইতে পারেন।
মামলায় বকেয়া খোরপোশ এবং স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য নিয়েও বিরোধ ছিল। এই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের দায়িত্ব ট্রায়াল কোর্টের উপর ছেড়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মোট বকেয়া টাকার ৫০ শতাংশ জমা দিলে স্বামীর বিরুদ্ধে জারি হওয়া ডিস্ট্রেস ওয়ারেন্ট স্থগিত থাকবে।
