ওয়েব ডেস্ক: এই কিছুদিন আগেই ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) হাতে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan SG)। ৪-১ গোলের সেই হার কোনও বাগান সমর্থকদেরই হজম হওয়ার কথা নয়। গুরুত্বের বিচারে কলকাতা লিগ (Calcutta League) ডুরান্ডের সমকক্ষ না হলেও, বাগান সমর্থকরা আশায় ছিলেন সোমবারের ডার্বিতে বদলা নেওয়া হবে। কিন্তু বারাসাত স্টেডিয়ামের মাঠে খেলা শেষ হল ১-১ ফলাফলে।
এই ড্র আসলে মোহনবাগান সমর্থকদের হারের জ্বালাই দেবে। কারণ এদিন ইস্টবেঙ্গল খেলিয়েছিল ‘বাচ্চাদের’, তারা শুধু কলকাতা লিগই খেলে, আইএসএল তো দূর, ডুরান্ডেও সুযোগ পায় না। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে মোহনবাগান নামিয়েছিল মনবীর সিং, সাহাল আবদুল সামাদ, আপুইয়া, শুভাশিস বসু, মেহতাবদের, যাঁরা এ দেশের প্রথম সারির ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত হন।
আরও পড়ুন: ইংল্যান্ড জার্সিতে ফিরলেন পিটারসেন, এবার কোন অবতারে?
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল খেলিয়েছিল চাকু মান্ডি, মনোতোষ মাজি, গৌরব সাউ, অঙ্কন ভট্টাচার্য, তন্ময় দাস, আকাশ হেমরামদের মতো অখ্যাত, অনামীদের। অথচ তাদের বিরুদ্ধেও আটকে গেল পালতোলা নৌকা। হেভিওয়েট টিম নামানোয় শুরুতে আধিপত্য ছিল বাগানেরই। প্রথমার্ধে দলকে এগিয়েও দেন মনবীর। কিন্তু ওই পর্যন্তই, মেরিনাররা ওখানেই থেমে গেল।
বরং দ্বিতীয়ার্ধে লাল-হলুদের ‘কচিকাঁচারা’ মশাল জ্বালল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর মিনিট ২০ আক্রমণের ঝড় তোলে তারা। একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি হলেও কাজের কাজ হয়নি, অবশেষে হল, ৬৫ মিনিটে। বাগান রক্ষণের নামগুলো হল শুভাশিস, রাহুল ভেকে, মেহতাব, তাঁদের লজ্জা দিয়েই কর্নার থেকে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান মহম্মদ বিলাল।
এই ম্যাচের পর মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্টের অবশ্যই চিন্তিত হওয়ার কথা। তারকা সমৃদ্ধ দল নিয়ে ডুরান্ড ফাইনালে শোচনীয় হার, কলকাতা লিগে লাল-হলুদের ‘ছোট’ টিমের বিরুদ্ধে জিততে না পারা, সমস্যা ঠিক কোথায় আর সমাধানই বা কী, সবকিছুই খুঁজে বের করতে হবে। এ মরসুমে কোচ হয়ে আসা প্যানজিওটিস ডিলেমপেরিসের কাঁধে এখন অনেক দায়িত্ব।
