ওয়েব ডেস্ক : সুপ্রিম কোর্টে (Suppreme court) মামলার শুনানির পরই এবার তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে (NCPI) যাওয়া ২০ সাংসদকে নোটিস পাঠিয়ে সাত দিনের মধ্যে জবাব তলব করলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ ওই সাংসদদের বিরুদ্ধে সদস্যপদ খারিজের যে আবেদন করা হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই এই জবাব তলব করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূলের লোকসভা দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আবেদনে। তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০ সাংসদ অন্য রাজনৈতিক সংগঠন এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইন কার্যকর করার দাবি জানানো হয়। এই বিষয়ে স্পিকার ওম বিড়লার কাছে একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। সিদ্ধান্তে দেরি হচ্ছে অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।
আরও খবর : এসআইআর মামলায় বড় পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে ২০ সাংসদের কাছ থেকেই জবাব চেয়েছে শীর্ষ আদালত (Suppreme court)। আর আদালতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, স্পিকারের দফতরও ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সাংসদদের নোটিস দিয়েছে। এরপর প্রকাশ্যে আসে, ২৫ অগাস্ট লোকসভা সচিবালয়ের তরফে নোটিসগুলি জারি করা হয়েছে। নোটিসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা আবেদনগুলির প্রতিলিপিও দেওয়া হয়েছে।
এখন মূল নজর ২০ সাংসদের জবাবের দিকে। তাঁদের বক্তব্য পাওয়ার পর বিষয়টি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) বিবেচনার জন্য যাবে। তৃণমূলের দাবি, দলীয় প্রতীকে জিতে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়ায় সাংসদদের বিরুদ্ধে দশম তফসিল অনুযায়ী ব্যবস্থা হওয়া উচিত। পাল্টা ওই সাংসদদের অবস্থান, তাঁদের পদক্ষেপ বৈধ রাজনৈতিক সংযুক্তি বা একীভূত হওয়ার আওতায় পড়ে। ফলে সাংসদদের জবাবের পর স্পিকার কী ব্যবস্থা নেন সেটা এখন দেখার।
তবে এখনও ওই ২০ সাংসদ দলত্যাগ-বিরোধী আইন ভেঙেছেন বা তাঁদের সদস্যপদ খারিজ হবেই—এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টও আপাতত তাঁদের বক্তব্য জানতে চেয়েছে। ফলে সাত দিনের মধ্যে তাঁদের জবাব এবং এরপর স্পিকারের পরবর্তী পদক্ষেপই ঠিক করবে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন কোন দিকে যায়।
