মুর্শিদাবাদ : অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna yojana) টাকা নিয়ে রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকে সামনে এল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। প্রকল্পের উপভোক্তা না হওয়া সত্ত্বেও এক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় সরকারি তথ্য যাচাই, আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংযুক্তিকরণ এবং প্রশাসনিক ডেটাবেসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকের বাসিন্দা সামজাদ শেখ ১০০ শতাংশ দৃষ্টিহীন বলে পরিবারের দাবি। সম্প্রতি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে একটি সরকারি প্রকল্পের টাকা জমা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর জানা যায়, ওই টাকা অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত। সামজাদের দাবি, তিনি এই প্রকল্পের উপভোক্তা নন এবং অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার জন্য কোনও আবেদনও করেননি। তাহলে তাঁর অ্যাকাউন্টে এই টাকা কীভাবে পৌঁছল, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
আরও খবর : বারুইপুরে বিজেপি কর্মী খুনে গ্রেফতার ৪
ঘটনার পর সোমবার রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লক অফিসে গিয়ে বিডিওর দফতরে লিখিত অভিযোগ জানান সামজাদ শেখ। তাঁর পরিবারের তরফেও বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়। ব্লক অফিসে অভিযোগ জমা দেওয়ার পর অভিযোগপত্রের রিসিভ কপিও সংগ্রহ করেন তাঁরা। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে এখন সরকারি নথিতেও এই অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna yojana) প্রকৃত উপভোক্তার তথ্যের সঙ্গে সামজাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কীভাবে যুক্ত হল? স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা, ডেটা আপডেটের ভুল, আধার সংক্রান্ত তথ্যের গরমিল, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংযুক্তিকরণে ভুল অথবা সরকারি স্তরে তথ্য যাচাইয়ের কোনও ত্রুটির কারণেই এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি নিছক প্রযুক্তিগত ভুল নাকি প্রশাসনিক গাফিলতি, তা তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। সামজাদ ও তাঁর পরিবারের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে কোন পর্যায়ে ভুল হয়েছে এবং প্রকৃত উপভোক্তার টাকা কোথায় যাওয়ার কথা ছিল, তা স্পষ্ট করা হোক।
