ওয়েব ডেস্ক : মধ্যপ্রদেশের (Madhyapradesh) বালাঘাট জেলায় একের পর এক শিশুর অসুস্থতা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৬ জুন থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ শিশুর মৃত্যু (Death) হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি কয়েকশো মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আক্রান্ত এলাকাগুলির অধিকাংশই বাইগা জনজাতি অধ্যুষিত। তবে ঠিক কোন কারণে এই অসুস্থতা ছড়াচ্ছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি স্বাস্থ্য দপ্তর।
বালাঘাটের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ড. পরেশ উপ্লাপ জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের শরীরে একাধিক সংক্রমণের লক্ষণ মিলেছে। তাঁর কথায়, “মৃত এবং হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে ম্যালেরিয়ার জ্বর ও স্ক্যাবিসের মতো উপসর্গের পাশাপাশি অপুষ্টিরও লক্ষণ দেখা গিয়েছে।” পরিস্থিতির কারণ জানতে রক্ত ও জলের নমুনা দেশের বিভিন্ন উন্নত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতার আইসিএমআর-এর একটি প্রতিষ্ঠান এবং পুণের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিও রয়েছে। রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।
প্রায় ৪০ দিন ধরে একাধিক গ্রামে অসুস্থতার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে কুন্দেকাসায়। সেখানে একটি সরকারি স্কুলে অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করেছে প্রশাসন। স্বাস্থ্য দপ্তরের সমীক্ষায় ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, ছত্রাক ও ত্বকের সংক্রমণ, স্ক্যাবিস, হাম, জ্বর, সর্দি-কাশি এবং ডিহাইড্রেশনের মতো নানা সমস্যা ধরা পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০টি সমীক্ষা দল, ১০ জন চিকিৎসক এবং চারটি অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন করা হয়েছে।
বালাঘাট জেলা হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত ৩ থেকে ১৭ বছর বয়সি ৯৮ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৫১ জন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বাকি ৪৭ জন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। একইসঙ্গে দুর্গম জনজাতি এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছনোর সমস্যা, অপুষ্টি, পরিবহণের অভাব এবং হাসপাতালে পৌঁছতে দেরির বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য অনেক সময় প্রথমে স্থানীয় গুণিন বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের উপর নির্ভর করা হয়। তবে স্বাস্থ্যকর্মী ও সমাজকর্মীদের মতে, শুধু কুসংস্কারকে দায়ী করলে সমস্যার গভীরে থাকা অপুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ঘাটতি আড়াল হয়ে যাবে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি, তবে আক্রান্ত গ্রামগুলিতে নজরদারি ও চিকিৎসা পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে।
