কলকাতা: তোলা আদায়ের অভিযোগের তদন্তে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধারের দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, গত ৩১ জুলাই কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় মোট ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেই তল্লাশিতে তোলা আদায় এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ থেকে পাওয়া অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত একাধিক নথি, হিসাবের খাতা এবং ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার হয়েছে।
ইডির দাবি, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ-সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসও তল্লাশির সময় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অভিযোগে উঠে আসা বেআইনি ভাবে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ জমি-বাড়ি-সহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। পাশাপাশি অস্থাবর সম্পত্তিতেও ওই অর্থ খাটানো হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি ইডির। তাদের অভিযোগ, বেআইনি অর্থের উৎস আড়াল করতে একাধিক ‘শেল কোম্পানি’-র নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সংস্থাগুলির মাধ্যমে অর্থের লেনদেন এবং বিনিয়োগের পথ গোপন করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইডির আরও দাবি, সব্যসাচী দত্ত এবং তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১৫০টি ব্যাঙ্ক এবং ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে মোট অন্তত ১৩.৯ কোটি টাকা ছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
তল্লাশিতে নগদ টাকাও উদ্ধার হয়েছে। ইডির দাবি, ৪০.৫০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৭,২০০ মার্কিন ডলার মূল্যের বিদেশি মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
তবে এই মামলায় তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। উদ্ধার হওয়া নথি, ডিজিটাল তথ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং শেল কোম্পানির মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইডি। অভিযোগগুলির ভিত্তিতে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
