কলকাতা: চোখের মণি নীল-সাদা। যেন আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার রং ফুটে উঠেছে চোখেই! এমনই বিরল শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হাওড়ার (Howrah) উদয়নারায়ণপুরের বাসিন্দা সূর্য শাসমল। প্রথম দেখায় দৃশ্যটি চিকিৎসকদেরও বিস্মিত করেছিল। তবে এর নেপথ্যে ছিল না কোনও জন্মগত বৈশিষ্ট্য, বরং চোখের জটিল রোগ।
চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সমরেশ পণ্ডিত জানান, রোগীর চোখে ছিল হাইপার ম্যাচিওর ক্যাটারাক্ট বা অত্যন্ত পরিণত ছানি। পাশাপাশি চোখের চাপও বেড়ে গিয়েছিল। এই দুই সমস্যার জেরেই চোখের মণি নীল-সাদা রঙের হয়ে যায়। এর ফলে ক্রমশ ঝাপসা দেখতে শুরু করেন সূর্যবাবু। রাতে দৃষ্টিশক্তি আরও কমে যাচ্ছিল। গাড়ির হেডলাইট বা তীব্র আলোয় অতিরিক্ত ঝলকানিও অনুভব করছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ফের পিছোল সুজিত বসুর মামলার শুনানি, ৩ অগস্ট ইডির বক্তব্য শুনবে আদালত
রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ ফেকো সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসক। অস্ত্রোপচারের সময় বিশেষ জেলির মতো পদার্থ ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ছানি অপসারণ করা হয়। পরে রোগীর চোখে ফোল্ডেবল ইনট্রাঅকুলার লেন্স বসানো হয়। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর ধীরে ধীরে রোগীর দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
ডা. পণ্ডিত মজার ছলে বলেন, অপারেশন থিয়েটারে রোগীর চোখ দেখে তাঁর আর্জেন্টিনার পতাকার কথা মনে পড়েছিল। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি ছিল অত্যন্ত জটিল। সময়মতো অস্ত্রোপচার না হলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝাপসা দেখা, আলোয় অতিরিক্ত ঝলকানি, রাতে দেখতে অসুবিধা বা চোখের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়। অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো চিকিৎসা করলে দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
