ওয়েব ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) শুধু গোল, জয়-পরাজয় কিংবা ট্রফির লড়াই নয়। এই মঞ্চ বারবার এমন কিছু মানবিক গল্প উপহার দেয়, যা ছাপিয়ে যায় মাঠের পরিসংখ্যানকেও। চলতি বিশ্বকাপে তেমনই এক আবেগঘন গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন ভোজিনহা (Vozinha)। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক এখন কেপ ভার্দের জাতীয় নায়ক। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী স্পেনের বিরুদ্ধে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে দলকে ড্র এনে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু মাঠের সেই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত আক্ষেপ— তাঁর মা ছেলের বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আমেরিকায় যেতে পারেননি শুধুমাত্র টাকার অভাবে।
স্পেন ম্যাচের পর নিজের হতাশার কথা প্রকাশ করেছিলেন ভোজিনহা। তিনি জানান, তাঁর মা বিশ্বকাপে ছেলের খেলা সরাসরি দেখার স্বপ্ন দেখলেও ভিসা এবং ভ্রমণের খরচ জোগাড় করতে না পারায় সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছিল। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি পৌঁছে যায় মার্কিন রাজনীতির অন্দরমহলে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস উদ্যোগ নেন সমস্যার সমাধানে। তিনি মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন এবং ভোজিনহার মায়ের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার আবেদন জানান। এরপর দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। জানা গিয়েছে, ভোজিনহার ৮০ বছর বয়সী মা অ্যানা ক্যানডিডা ইভোরার ভিসা সংক্রান্ত ফি মকুব করা হয়েছে। ফলে তিনি এবার মার্কিন মুলুকে গিয়ে ছেলের বিশ্বকাপের ম্যাচ সরাসরি দেখতে পারবেন।
আরও পড়ুন: মেসি, এমবাপে নাকি হলান্ড, ‘গোল্ডেন বুট’-এর লড়াইয়ে এগিয়ে কে? জমে উঠেছে লড়াই
উল্লেখ্য, কেপ ভার্দে (Cape Verde) এমন একটি দেশের মধ্যে পড়ত, যার নাগরিকদের আমেরিকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা ফি ছাড়াও ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের বন্ড জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল। যদিও সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলির ক্ষেত্রে সেই নিয়ম শিথিল করে। কিন্তু তার আগেই অতিরিক্ত খরচের আশঙ্কায় ভোজিনহার মা আমেরিকা যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছিলেন। বুধবার হাকিম জেফ্রিস জানান, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আনা কান্দিদা এভোরা মায়ামিতে অনুষ্ঠিত কেপ ভার্দে বনাম উরুগুয়ের ম্যাচে উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি তিনি মার্কো রুবিও এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদও জানান।
দেখুন আরও খবর:
