ওয়েব ডেস্ক : প্রায় ১০৭ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে আমেরিকা (America) ও ইরান (Iran)। সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের পর এই শান্তি চুক্তি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এর ফলে গত সাড়ে তিন মাস ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলতে চলেছে বিশ্বের তৈল ধমনী হরমুজ (Strait of Hormuz)।
রবিবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প (Trump) ঘোষণা করেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।” তিনি জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের বন্দরগুলির উপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। হরমুজ প্রণালী আবার জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। ট্রাম্প লেখেন, “আমি হরমুজ প্রণালীকে টোলমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার অনুমোদন দিচ্ছি। একই সঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিচ্ছি। বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করুন। আবার তেলের প্রবাহ শুরু হোক।” পরবর্তী এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে শান্তিচুক্তিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরই হরমুজ সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া হবে।
আরও খবর : হরমুজে আটকে রয়েছে ৫৬২ জন ভারতীয় নাবিক, জানাল জাহাজ মন্ত্রক
এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তেলের দাম অস্থির ছিল। শান্তিচুক্তির খবর সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই শান্তিচুক্তিকে ট্রাম্প (Donald Trump) মধ্যপ্রাচ্যে “শান্তি ও নিরাপত্তার নতুন অধ্যায়” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, “অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কেউ সফল হননি।”
যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, চুক্তি বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনা কীভাবে এগোয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই শান্তি কতটা স্থায়ী হবে। এদিকে এই চুক্তি সম্পন্ন হলে অনেকটা স্ব্তি ভাবে ভারত। কারণ এই প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যার মুখে পড়েছিল গোটা দেশ। তেলের পাশাপাশি বেড়েছিল গ্যাসের দাম। যার ফলে সাধারণ মানুষের সমস্যা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। তবে এবার হরমুজ পুরোপুরি খুলে দিলে জ্বালানি ও তেল পরিষেবা স্বাভাবি হবে। যার ফলে সমস্যা মিটবে নয়াদিল্লির।
এদিকে ইরানের (Iran) এক সরকারি আধিকারিকের উদ্ধৃতি তুলে ধরে রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজকে পুরোপুরি মুক্ত করার পাশাপাশি স্বাধীন নৌচলাচলে একমত হয়েছে দুই দেশ। এছাড়া ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে আমেরিকা। এমনকি আমেরিকা ইরানের যে ২৫ বিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করেছে তা ফেরত দেবে বলেও খবর। এর বিনিময়ে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না।
দেখুন অন্য খবর :
