কলকাতা: ভোট পরবর্তী হিংসায় ‘আক্রান্ত’ সোনারপুরে দলীয় কর্মীর বাড়িতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোনারপুরে (Sonarpur) তৃণমূল সাংসদকে সামনে পেয়েই চোর চোর স্লোগান উঠল। ধেয়ে এল ডিম, জুতো।ছিঁড়ে দেওয়া হলো তৃণমূল নেতার জামাও। হেলমেট পরিয়ে বিক্ষোভ থেকে অভিষেককে বাঁচানোর চেষ্টা। পরে রাস্তায় তাঁকে মারধরেরও অভিযোগ উঠল। শুধু ডিম নয়, জুতোও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। সেইসঙ্গে চলতে থাকে অশ্রাব্য গালিগালাজ। অভিযোগ, জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয় অভিষেকের। প্রবল জনবিক্ষোভের মধ্যেই দলীয় কর্মীর বাড়ির দিকে এগোতে থাকেন তিনি। ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হল শনিবার বিকেলে। বিক্ষোভে মুখে পরে অভিষেক বলেন, আজকের বর্বরতা মধ্যযুগের বর্বরতাকেও হার মানাবে।
শনিবার ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত দলের এক কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এদিন সোনারপুরে যাচ্ছিলেন অভিষেক। এদিন বিকেলে পথে কামালগাছির কাছে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয় অনেকে। অভিষেক সোনারপুরে যাওয়ার আগেই কোথাও মহিলাদের হাতে ডিম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। কোথাও কালো পতাকা হাতে নিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিচ্ছিলেন বিজেপির লোকজন। এই বিক্ষোভের মধ্যে চারচাকা গাড়িতে না-গিয়ে বাইক নেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। ক্রিকেট খেলার হেলমেট মাথায় দিয়ে তৃণমূল সাংসদ এগোতে থাকেন সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে। সোনারপুরে ঢোকার মুখে তাঁর গায়ে হাত তোলেন বিক্ষোভকারীরা।
আরও পড়ুন: সোনারপুরে ঢুকতে হল মাথায় হেলমেট দিয়ে! এ কী অবস্থা অভিষেকের?
নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারা হয় মাথায়-ঘাড়ে-গায়ে। তখন তাঁর গায়ে ডিম ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়েছে। ছিঁড়ে দেওয়া হয় পরনের সাদা রঙের শার্টের বোতাম। ওই অবস্থায় হেঁটে এগোতে থাকেন তৃণমূল নেতা। তবে অভিষেক চশমা, ঘড়ি ভেঙে গিয়েছে। বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে যায় পুলিশ।বিক্ষোভ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে যায় পুলিশ।
অভিষেক জানান, ‘‘এই হল ডবল ইঞ্জিনের নমুূনা। সবাই চেয়েছিল, ডবল ইঞ্জিন হোক। ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরবে। আমার মাথাটা বেঁচে গেল শুধু হেলমেট ছিল বলে। পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইল। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই পারি।কিন্তু এই পরিবারের উপর হামলা হবে তারপর। আমি এখন এঁদের ছেড়ে যেতে পারব না। বাহিনী পাঠিয়ে আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। আমি এই ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টেও যাব, সুপ্রিম কোর্টেও যাব।” ওই পরিবারের সঙ্গেই রয়েছেন অভিষেক।পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপেক্ষায়। শোনা যাচ্ছে, সোনারপুরে অভিষেকের উপর এত বড় হামলার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যাচ্ছেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূলনেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
