কোচবিহার: তিনবিঘা করিডর (Tin Bigha Corridor) সংলগ্ন সীমান্ত (India-Bangladesh Border) এলাকায় ফের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। শনিবার সকালে তিনবিঘা করিডর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, “আগেও রক্ত দিয়েছি, আবার রক্ত দেব। তবু জিরো লাইনে কাঁটাতারের বেড়া হবেই।” সীমান্তে বেড়া নির্মাণ নিয়ে বাংলাদেশি নাগরিক ও বিজিবি-র আপত্তির জেরেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর শনিবার সকালে এলাকায় পৌঁছন দধিরাম রায়। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়ে জানান, “জিরো লাইনেই কাঁটাতারের বেড়া হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে ৪৫ দিনের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী মেখলিগঞ্জের তিনবিঘা সংলগ্ন বাংলাদেশ সীমান্তের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা এলাকায় জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। এই সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি দেশের অন্যান্য সীমান্ত অঞ্চলের তুলনায় আলাদা।
আরও পড়ুন: ওপার বাংলার রাস্তায় কাটানো ১৫টা বছর, অবশেষে বাড়ি ফিরলেন মালদহের নাজিমুল
তিনবিঘা চুক্তি অনুযায়ী ভারত জিরো লাইনের কাছাকাছি পর্যন্ত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে পারে বলে দাবি ভারতীয় পক্ষের। সেই নিয়ম মেনেই জিরো লাইন থেকে প্রায় ৫০ ফুট পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে অভিযোগ, এই কাজের বিরোধিতা করছেন বাংলাদেশের কিছু সাধারণ মানুষ এবং বিজিবি। তাঁদের দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিয়ম মেনে ১৫০ গজ দূরে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে হবে।
অন্যদিকে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, তিনবিঘা চুক্তির ভিত্তিতেই বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকরা তিনবিঘা করিডর ব্যবহার করে ২৪ ঘণ্টাই যাতায়াতের সুযোগ পান। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, “বাংলাদেশ যদি চুক্তি না মানে, তবে আমরাও চুক্তি মানব না। প্রয়োজনে রাতে তিনবিঘা করিডর দিয়ে বাংলাদেশিদের যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
দেখুন আরও খবর:
