পূর্ব বর্ধমান: আউশগ্রামে এখন মানুষের মুখে মুখে একটাই নাম ঘুরছে- কলিতা মাজি (Kalita Maji)। পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালানো এই সাধারণ গৃহবধূই এবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপির (BJP) বিধায়ক তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। আজই বিধায়িকা হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। তবে রাজনৈতিক সাফল্যের এই শিখরে পৌঁছেও মাটির কাছাকাছিই থাকতে চান কলিতা মাজি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি আতিশয্য চাই না। বিধায়ক হয়েও সাধারণ মানুষ হিসেবেই থাকতে চাই।”
আউশগ্রামের গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ার বাসিন্দা কলিতা মাজি দীর্ঘদিন ধরে পরিচারিকার কাজ করেই সংসার চালিয়েছেন। স্বামী ও ছেলে পার্থকে নিয়ে তাঁর ছোট সংসার। ছেলে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। আর্থিক অনটনের মধ্যেও লড়াই থামাননি তিনি। আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি তপশিলি জাতি সংরক্ষিত আসন এবং বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হয়েছিলেন কলিতা মাজি। কিন্তু সেই পরাজয় তাঁকে দমাতে পারেনি। এবারও তাঁর উপরেই আস্থা রাখে বিজেপি নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন: শপথের সকালে উৎসবমুখর শিল্পাঞ্চল! স্টেশনে স্টেশনে ব্রিগেডমুখী জনতার ঢল
গত ১৬ মার্চ বিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে কলিতা মাজির নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। নাম ঘোষণার পর থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রচারে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছিল পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে। তাঁকে জেতাতে সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছিল তৃণমূল নেতৃত্বও। তবে সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে আনেন কলিতা মাজি। তিনি মোট ১ লক্ষ ৭ হাজার ৬৯২ ভোট পেয়ে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে ১২ হাজার ৫৩৫ ভোটে পরাজিত করেন।
মঙ্গলবার নিজের প্রতিক্রিয়ায় কলিতা মাজি বলেন, “আমি গরিব পরিবারের একজন বধূ। তাই গরিব মানুষের কষ্ট আমি বুঝি। আজ আমি বিধায়ক হয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি তৃণমূলের অনেক বিধায়কের মতো হতে চাই না। আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আউশগ্রামের মানুষের ভালো করার মধ্য দিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহজির মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।”
দেখুন আরও খবর:
