কলকাতা: গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল টলিউডের সেলেবরা। বুধবার রাজ্যের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার নির্বাচন। সেই প্রেক্ষিতেই লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের দুনিয়ায় আজ হলিডে মুড!মেঘলা আকাশ আর মনোরম আবহাওয়ার মধ্যে সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন টলিউডের প্রথম সারির তারকারা। এদিনের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) এবং তাঁর ছেলে তৃষাণজিৎ (Trishanjit Chatterjee)। প্রথমবারের ভোটার তৃষাণজিৎকে সঙ্গে নিয়ে বালিগঞ্জের বুথে ভোট দিতে আসেন ‘বুম্বাদা’। ছেলের প্রথম ভোট নিয়ে গর্বিত বাবা বলেন, “সুস্থভাবে ভোট হয়েছে, ছেলে প্রথমবার ভোট দিল দেখে খুব ভালো লাগছে।”

অভিনেতা জিৎ তাঁর স্ত্রী মোহনাকে নিয়ে নিউ আলিপুরে ভোট দিতে আসেন এবং ভোট দিয়ে বেরিয়েই ৪ মে-র ফলাফলের দিকে ইঙ্গিত করে এক মিষ্টি হাসি উপহার দেন।নিউ আলিপুরের সারদা আশ্রম বালিকা বিদ্যালয়ে ভোট দিলেন টলিউড সুপারস্টার জিৎ (Jeet)। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মোহনা মদনানিও। অফ হোয়াইট শার্ট ও কালো ব্যাগি ট্রাউজারে টলিউড সুপারস্টারকে দেখে ছবি তুলতে এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বুথ থেকে বেরনোর সময়ে জিতের মন্তব্য, ‘৪ তারিখ কী হয় দেখা যাক!’

রং মিলান্তি পোশাকে ভোটের উৎসবে শামিল নুসরত জাহান, যশ দাশগুপ্তও। পরনে তাঁদের সাদা টি শার্ট ও ব্লু জিন্স। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে সোশাল মিডিয়ায় সেই ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত ভাগও করে নিয়েছেন যুগলে। সম্প্রতি ইডি তলবের পর ভোট দিতে গিয়ে প্রথম জনসমক্ষে ধরা দিলেন প্রাক্তন তারকা সাংসদ।

বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার অন্তর্গত ২৬০ নম্বর বুথে সাধুমতি বালিকা বিদ্যালয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিলেন অভিনেতা অঙ্কুশ। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী যেভাবে কাজ করছে খুব ভালো লাগছে। ভোটের পার্সেন্টেজ দেখে আরও ভালো লাগছে। এত পরিমাণ ভোট পড়ছে সেটা আরও বড় কথা।”

সাউথ সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বুথে ভোট দেন দেব (Dev)। প্রতিবারের মতো এবারেও সেখানেই মা-বাবাকে নিয়ে দুপুর নাগাদ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন টলিউড সুপারস্টার। ভোট দিয়ে বেরিয়ে দেব জানান, “এটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার তাই সানন্দে উদযাপন করুন।”তিনি বলেন, “অনেক ঠিক কাজ হচ্ছে। যা বেঠিক, সেটা বলা হচ্ছে। আবার অন্যায় হলে তো তার বিরোধিতাও করা উচিত। আমাদের দল ন্যায়ের জন্যই লড়াই করছে।”

টালিগঞ্জ গল্ফক্লাব রোডের বাঙ্গুর হাইস্কুলে দুপুর বারোটা নাগাদ বাবা রঞ্জিত মল্লিক ও মা দীপা মল্লিককে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিলেন কোয়েল মল্লিক। রঞ্জিত বলেন, “এবারের ভোটটা আমার কাছে দুঃখের। কত লোক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলেন না!” গত এক মাস ধরে বহু তারকা ময়দানে নেমে প্রচার করেছেন। রোদ, জল উপেক্ষা করে পৌঁছে গিয়েছেন সাধারণের কাছে। যেমন, এই প্রথম বার ভোট প্রচারে দেখা গিয়েছে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে। কোয়েলের মন্তব্য, “সব সময় চেয়েছি দেশের উন্নতি। দেশের ভালোর জন্য প্রত্যেকের ভোট দেওয়া দরকার।”

ভোটের দিন মাকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিলেন ঐন্দ্রিলা সেন। মায়ের সঙ্গে ভোট দিতে পৌঁছোন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী।বাবা-মাকে সঙ্গে করে সকাল সকাল ভোট দিয়েছেন অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়।

তৃণমূলের প্রচার মঞ্চে পা রেখে রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করার কথা ঘোষণা করেছেন। কৃষ্ণনগরের সভা থেকেই বিজেপিকে বিঁধেছিলেন। এবার দ্বিতীয় দফা ভোটের দিন সময় বের করে বুথে পৌঁছে গিয়েছিলেন ভোট দিতে। পরনে সাদা টি-শার্ট। ভোটের পর ক্যামেরায় পোজ দিতে ভোলেননি অভিনেতা-পরিচালক।

বালিগঞ্জে দুপুর নাগাদ কন্যা রাইমাকে নিয়ে ভোট দিলেন মুনমুন সেন। রোদচশমা চোখে রাইমার রহস্যময়ী হাসি আর মুনমুনের চিরকালীন আভিজাত্য, দুইয়ে মিলে সেন পরিবারের রঙিন ভোটদান পর্ব ক্যামেরাবন্দি হল।

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য অসম থেকে কলকাতায় পাওলি দাম। বুধবার সাতসকালে ভোট দিলেন অভিনেত্রী। পরনে রাজনীতির ময়দানের চিরন্তন সাদা রঙের পোশাক।গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল সোহিনী সরকারও। নীল সালোয়ারে মিষ্টি হাসিতে ভোটচিহ্ন দেখিয়ে নজর কাড়লেন টলিউড নায়িকা।অভিনেত্রী পার্ণো মিত্র আঙুলে ভোটের প্রতীকী দেখিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করে সচেতনতার বার্তা দিয়েছেন। গণতান্ত্রিক।

বাইপাস সংলগ্ন আবাসনে থাকেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। কিন্তু শ্রাবন্তীর ভোট এখনও তাঁর পুরনো পাড়ায়। বেহালায় মা-বাবা, দিদির সঙ্গে ভোট দিয়ে এলেন নায়িকা। অন্য দিকে রচনা সকাল সাতটায় মিটিয়ে এলেন নিজের ভোটপর্ব।
