ওয়েব ডেস্ক: শেষ দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে নিরাপত্তা জোরদার করতে মাঠে নেমেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। ‘অল আউট’, ‘নাইট ডমিন্যান্স’, ‘কবচ’, ‘ট্রাস্ট’, একাধিক নামে শুরু হয়েছে বিশেষ টহল অভিযান। উদ্দেশ্য একটাই, ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ১০০-র বেশি সাঁজোয়া ও অ্যান্টি-রায়ট যান মোতায়েন করা হয়েছে। দিন-রাত এলাকা দখল টহল, রাতভর নজরদারি এবং দৃশ্যমান বাহিনীর উপস্থিতি, সব মিলিয়ে নিরাপত্তার কড়াকড়ি চোখে পড়ার মতো। আগামী ২৯ এপ্রিল শেষ দফার ভোটে রাজ্য জুড়ে প্রায় ২.৪ লক্ষ CAPF জওয়ান মোতায়েন থাকবেন, রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি।
আরও পড়ুন: লাইনচ্যুত বন্দে ভারত এক্সপ্রেস! চাঞ্চল্য মহারাষ্ট্রে
অতীতে ভোট-সহিংসতার অভিজ্ঞতা থাকায় এ বার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। ‘অল আউট’ নামকরণের ব্যাখ্যায় এক আধিকারিক বলেন, “মুক্ত ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে আমরা সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমেছি। রাতের টহল মানে মানুষ বুঝতে পারবে, বাহিনী তাদের পাশেই আছে। ভয়ের কোনও কারণ নেই।” তাঁর দাবি, এমনও হয়েছে ২০-৩০ বছর পর নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন অনেকেই।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও সক্রিয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিআরপিএফের তরফে জানানো হয়েছে, সংবেদনশীল এলাকায় দিন-রাত টহল ও নাকা চেকিং চলছে। লক্ষ্য, ভোটারদের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলা এবং শান্তির পরিবেশ বজায় রাখা। ভোটের দায়িত্ব সামলাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও বাহিনী সরানো হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর, মণিপুর এবং মাওবাদী প্রভাবিত এলাকা থেকেও জওয়ান আনা হয়েছে বাংলায়।
পাশাপাশি, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল, অ্যান্টি-স্যাবোটাজ চেকিং ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে সমন্বিত নিরাপত্তা বলয়। ভোটের লড়াই যতই তীব্র হোক, প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট, ভয়মুক্ত পরিবেশেই হবে শেষ দফার ভোট।
