ওয়েব ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় রেকর্ড ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদানের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফার প্রচারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গ এবার তৈরি হচ্ছে দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য। সভামঞ্চ থেকে তাঁর হাত ধরে বিজেপিকে ভোট (West Bengal Elections 2026) দেওয়ার আহ্বান জানালেন নরেন্দ্র মোদি(PM Narendra Modi)।ফের আরজি কর ইস্যুতে তৃণমূলকে বিঁধলেন নমো। পাশাপাশি ক্ষমতায় আসলে, হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া নারী নির্যাতন মামলার সব ফাইল ফের খোলা হবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদি। প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড ভোট পড়া নিয়ে এদিন মোদি বলেন, ‘‘বাম্পার ভোটদান হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এমন দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার প্রথমদফার নির্বাচনে ১৫২টি আসনে ভোট হয়েছে। স্বাধীনতার পর সর্বকালীন রেকর্ড ভোট পড়েছে। ৯২.৭১ শতাংশ ভোট পড়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, “ভোট দেখে তৃণমূল নেতারা হতচকিত হয়ে গিয়েছে। প্রদীপ নেভার আগে জ্বলে ওঠে। তৃণমূলেরও সেই অবস্থা হয়েছে।” রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি। মোদি বলেন, ‘‘আপনারা এত ক্ষণ রোদে অপেক্ষা করেছেন। আপনাদের এই তপস্যা বিফলে যেতে দেব না আমি। প্রতিদান দেব।’’মোদি বলেন, ‘‘বাম্পার ভোটদান হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এমন দেখা যায়নি, যা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ করে দেখিয়েছেন। সর্বত্র এটা নিয়েই আলোচনা চলছে যে, বিজেপি কত ভোটে জিতবে। সকলে নির্ভয়ে বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই সঙ্গে ভবিয্যৎবাণী করে মোদি বলেন, কয়েকটি জেলায় তৃণমূল খাতাও খুলতে পারবে না। প্রথম দফা থেকে এটা নিশ্চিত। দ্বিতীয় দফায় এই রেকর্ডও ভেঙে দিতে হবে। তৃণমূলের হারে সিলমোহর লাগাতে হবে।
আরও পড়ুন: পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের হয়ে ভোট প্রচারে নরেন্দ্র মোদি
কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে মোদি বলেন, কংগ্রেস সরকারের সময়ে ১ জিবি ডেটা ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত। এখন সেটা ১০ টাকায় পাওয়া যায়। তাই আজ প্রত্যেক মধ্যবিত্তের মাসে ৪-৫ হাজার টাকা বেঁচে যায়। এমনটাই মন্তব্য নরেন্দ্র মোদির। গত ১১ বছরে দেশে মেডিক্যালের আসন দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা আর বাইরে পড়তে যায় না। তাঁদের পয়সা বেঁচে যায়। বাংলাতেও এখন মিডল ক্লাস পরিবারের উচিত BJP-র ডাবল ইঞ্জিন সরকার। মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর। তৃণমূলকে বিঁধে তিনি বলেন, ‘TMC-র সিন্ডিকেট কলকাতার ক্ষুদ্র ব্যবসা নষ্ট করে দিয়েছে। দমদমের মতো শহরের পরিস্থিতি আরও খারাপ। কারখানাগুলিতে তালা পড়ে গিয়েছে। আগে দেশের অন্য রাজ্য থেকে কাজের জন্য যুবরা কলকাতায় আসত। এ রাজ্যের স্পোর্টস হাবও নষ্ট করে দিয়েছে এই সরকার। কলকাতার মাঠে লজ্জাজনক ঘটনা ঘটে। তৃণমূলের নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রী যা ঘটিয়েছে, তা আর বলার নয়।’
মোদি বলেন, ‘‘১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গের পরিচিতি তছনছ করে দিয়েছে তৃণমূল। অনুপ্রবেশকারীরা এখানকার বাসিন্দাদের রোজগার ছিনিয়ে নিচ্ছেন। এখানকার যুবকদের নিজেদের ঘর ছেড়ে রোজগারের খোঁজে বাইরে যেতে হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান তখনই হবে, যখন তৃণমূল পুরোপুরি চলে যাবে আর বিজেপি আসবে।’’যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ‘‘যাদবপুরের ক্যাম্পাসের ভিতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেওয়ালে দেশবিরোধী কথাবার্তা লেখা হচ্ছে। ছাত্রদের মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে। পড়াশোনা হচ্ছে না, যে সরকার নিজের রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষাকেন্দ্র বাঁচাতে পারে না, তারা রাজ্যকে কী বাঁচাবে?’’তৃণমূলের বিরুদ্ধে ইস্যু ধরে ধরে আক্রমণ মোদির।
বলেন, ‘এই শহর আজও ১৫০ বছর পুরনো নিকাশী ব্যবস্থার উপর বাঁচে। ভিআইপি ও যশোর রোডের জ্যাম দমদমের দম আটকে দিচ্ছে। হাইকোর্ট বারবার অবৈধ নির্মাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কালিন্দির পরিস্থিতি বদলেছে নাকি? মধুপুরের মতো এলাকার মানুষ জলকষ্টে ভুগছেন। জনতার আশার বিনাশ ঘটিয়েছে তৃণমূলের লোকেরা। প্রত্যেক বছরের বৃষ্টিতে জোগাড় করা টেন্ডার নিয়ে ব্যস্ত থাকেন ওঁরা। কয়েক বছর আগে জমা জলে এক ভাই মারা গিয়েছিলেন। নির্মম সরকার তখন নিজেদের গাফিলতি ঢাকতে ব্যস্ত ছিল। আজ পর্যন্ত শৌচালয় ঠিকঠাক বানাতে পারেনি এরা। জুগাড়ু দমদম চাই না আমরা, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দমদম চাই। আর তা করতে পারে আধুনিক মনস্ক BJP। কলকাতা মেট্রোর কাজ তৃণমূলের জন্যই আটকে রয়েছে। একটি প্রজেক্টের NOC ১ বছর ধরে আটকে রয়েছে। ওরা যতদিন সরকারে থাকবে এখানে যানজট কোনওদিন কাটবে না’ পানিহাটির মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, ”পিএম সিএম একসঙ্গে, উন্নয়ন হবে দিনে-রাতে”। বালি, ইট, সিমেন্টে কাদের রাজত্ব চলে, তা সকলে জানেন। জমি অবৈধ ভাবে দখল করে নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেট চলছে। সরকারের সহায়তা ছাড়া এটা চলতে পারে? এই পরিস্থিতি আমরা বদলাব।’’
