Forbidden

You don't have permission to access th1s resource.

বাইশ গজের ‘ঈশ্বর’ থেকে জনদরদী মানুষ! জেনে নিন শচীনের এক ‘অজানা’ অধ্যায় - KolkataTV
32.2 C
Kolkata

বাইশ গজের ‘ঈশ্বর’ থেকে জনদরদী মানুষ! জেনে নিন শচীনের এক ‘অজানা’ অধ্যায়

Must Read

ওয়েব ডেস্ক: তিনি মাঠে নামলেই কাজ করত এক অদৃশ্য আবেগ, গ্যালারি কেঁপে উঠত ‘শচীন! শচীন!’ স্লোগানে। কোটি কোটি ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীর স্বপ্নকে ব্যাটের আঁচড়ে বাস্তব রূপ দিয়েছিলেন শচীন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ১৩ বছর পরেও তাঁর জনপ্রিয়তায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। শুক্রবার ৫৩-এ পা দিলেন ‘লিটল মাস্টার’, আর জন্মদিনে আবারও প্রমাণিত হল—শচীন শুধু ক্রিকেটার নন, তিনি এক আবেগ।

তবে শচীনের পরিচয় কি শুধুই বাইশ গজের ‘ঈশ্বর’? ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, মাঠের বাইরেও তিনি সমান উজ্জ্বল, বিশেষ করে এক সমাজসেবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছেন তিনি। ২০১৩ সালের ১৬ নভেম্বর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। তার পর থেকেই আরও বেশি করে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন সমাজসেবার কাজে। যদিও ক্রিকেট জীবনের ব্যস্ত সময়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কখনও পিছপা হননি। ২৬/১১ মুম্বই হামলার পর তাঁর শতরান উৎসর্গ করেছিলেন নিহতদের উদ্দেশে—যা আজও আবেগ জাগায়।

আরও পড়ুন: অসুস্থতা উড়িয়ে শচীনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা কাম্বলি’র

শচীনের মানবিক দিকের এক উজ্জ্বল উদাহরণ তাঁর বন্ধু, মারাঠি লেখক দ্বারকানাথ সন্সগিরির অসুস্থতা। ক্যানসারে আক্রান্ত বন্ধুর চিকিৎসার জন্য নিজের ৫০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অর্থ দান করেছিলেন তিনি। যদিও এমন কাজ তিনি সবসময় আড়ালেই রাখতে চেয়েছেন। নিজের সমাজসেবার প্রচারকে তিনি বরাবরই অপছন্দ করেছেন।

বাল্যবন্ধু বিনোদ কাম্বলির সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক এই মানবিকতারই প্রমাণ। একসময় কাম্বলি অভিযোগ তুললেও পরে নিজেই স্বীকার করেন, কঠিন সময়ে শচীনই সবার আগে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অস্ত্রোপচার থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁর সাহায্য পেয়েছেন তিনি।

২০১৯ সালে স্ত্রী অঞ্জলির সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন শচীন তেন্ডুলকর ফাউন্ডেশন (Sachin Tendulkar Foundation)। এই সংস্থার লক্ষ্য—শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও সাহায্য করে এই ফাউন্ডেশন।

সাংসদ থাকাকালীন ‘সংসদ আদর্শ গ্রাম যোজনা’র অধীনে দু’টি গ্রাম দত্তক নিয়ে উন্নয়নের কাজ করেছেন শচীন। এছাড়াও ‘আপনালয়’-এর মাধ্যমে বহু বঞ্চিত শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন। কোভিড পরিস্থিতিতেও উদারভাবে অর্থ সাহায্য করেছিলেন তিনি।

২০১৩ সালে ইউনিসেফ-এর (UNICEF) আঞ্চলিক শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিযুক্ত হন শচীন। শিশুদের অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মেয়েদের শিক্ষা ও লিঙ্গসমতা নিয়েও বারবার সরব হয়েছেন।

সম্প্রতি ছত্তিশগড়ের বস্তারে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো থেকে শুরু করে রাঁচিতে খুদে ফুটবলারদের উৎসাহ দেওয়া—সব জায়গাতেই ধরা পড়েছে তাঁর সহজ-সরল, মানবিক সত্তা। তাই শচীন তেন্ডুলকর শুধু ক্রিকেটের ইতিহাসে নয়, মানুষের হৃদয়েও চিরস্থায়ী। জন্মদিনে তাঁকে ঘিরে উচ্ছ্বাস যতটা, ততটাই অনুপ্রেরণার তাঁর জীবন—যেখানে ব্যাটের পাশাপাশি সমান গুরুত্ব পেয়েছে মানবতা।

দেখুন আরও খবর:

Latest News

একই হাসপাতালে পরপর দুই রোগী নিখোঁজ! আর জি করে বেড থেকে উধাও, বাড়ছে প্রশ্ন

ওয়েব ডেস্ক : আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (RG Kar Hospital) থেকে পরপর দুই রোগী (Patient) নিখোঁজ...

More Articles Like This