কলকাতা: নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলছে শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই। রাজ্যে ভোটযুদ্ধের (West bengal Assembly Election 2026) প্রথম দিনেই নজিরবিহীন রণকৌশল গেরুয়া শিবিরের (BJP)। আগামী ২৩ এপ্রিল বাংলার ১৫২টি আসনে যখন প্রথম দফার ভোটগ্রহণ (First phase polling day west bengal 2026) চলবে, ঠিক তখনই রাজ্যের অন্য প্রান্তে প্রচারে ঝড় তুলতে পথে নামছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ২৩ এপ্রিল কাকদ্বীপে মোদির মেগা সভা (Modi Bengal Campaign 23 April)।
বিজেপি সূত্রে খবর অনুযায়ী, ২৩ তারিখ দুপুরের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে একের পর এক কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।ব্যারাকপুর ও মথুরাপুরে সভা করবেন নমো। দুপুর দেড়টায় ব্যারাকপুরে প্রথম জনসভা করবেন নরেন্দ্র মোদি। এরপর সেখান থেকে তিনি যাবেন মথুরাপুরে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই কেন্দ্রে তাঁর জনসভা করার কথা বেলা তিনটে বেজে পনেরো মিনিটে। হাওড়ায় রোড শো রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। মথুরাপুরের সভা সেরে প্রধানমন্ত্রীর গন্তব্য কলকাতা সংলগ্ন হাওড়া জেলা। সেখানে বিকেল পাঁচটা থেকে একটি মেগা রোড শো করার কথা রয়েছে তাঁর। রাজনৈতিক মহলের মতে, শহরতলি ও শিল্পাঞ্চলের ভোটব্যাঙ্ক সুসংহত করতেই ওই দিন হাওড়াকে বেছে নিয়েছেন মোদি।
আরও পড়ুন: প্রথম দফার ভোটে রাজ্যে আসছেন রাহুল, কী কী কর্মসূচি
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বঙ্গে প্রচারে ঝড় তুলতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ২৩ এপ্রিল কাকদ্বীপ মহকুমার সাগর, পাথরপ্রতিমা ও কাকদ্বীপ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। ওই দিনই রাজ্যে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির সাজ সাজ রব এলাকায়। সুন্দরবন পুলিশ জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও প্রশাসনিক কর্তারা দফায় দফায় সভাস্থল পরিদর্শন করছেন। সভাস্থলের কাছেই তিনটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছে। শুরু হয়েছে হেলিকপ্টার অবতরণের মহড়া।
সম্প্রতি সভাস্থল পরিদর্শনে এসে বিজেপি নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা বলেন, “২০২৪-এর নির্বাচনের সময় এখানে মোদিজীর সভাকে কেন্দ্র করে জনসমুদ্র আছড়ে পড়েছিল। এবারও যে পরিমাণ মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা খবর পাচ্ছি, তাতে সকলকে মূল সভাস্থলে জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন রাহুল সিনহা। প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ দোকান থেকে ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিদ্রুপের সুরে বলেন, “ঝালমুড়ি খেলেন মোদীজি আর শিশুরা, কিন্তু সেই ঝালে চিৎকার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” সব মিলিয়ে ২৩ এপ্রিলের এই মেগা সভাকে ঘিরে বর্তমানে সরগরম সুন্দরবন উপকূলের রাজনীতি।
