ওয়েব ডেস্ক: মেসি-কাণ্ডে (Messi Controversy) প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে (Aroop Biswas) ঘিরে বিতর্কের আবহে এবার তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুললেন এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী পিয়ালি বসাক (Piyali Basak)। রবিবার তিনি দাবি করেন, তৃণমূল সরকারের আমলে পরিচালিত পর্বতারোহন অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছিল। শুধু তাই নয়, অভিযানে ব্যবহৃত তাবু, স্লিপিং ব্যাগ-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও ছিল নিম্নমানের।
হুগলির চন্দননগরের বাসিন্দা পিয়ালির অভিযোগ, ২০১৮ সালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত একটি পর্বতারোহন অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের সমস্ত সরঞ্জাম সরকারি ব্যবস্থায় দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই সরঞ্জামের মান অত্যন্ত খারাপ ছিল, যার জেরে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়তে হয় অভিযাত্রীদের।
পিয়ালি বলেন, “মাত্র ২১ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছতেই পাঁচজনের ফ্রস্টবাইট হয়েছিল। তাঁদের হাত ও পায়ের আঙুল কেটে বাদ দিতে হয়। সেই সময় এই বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন অরূপ বিশ্বাস।” তাঁর অভিযোগ, অভিযানের জন্য গঠিত কমিটির সদস্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এখানেই থেমে থাকেননি পিয়ালি। তিনি দাবি করেন, পাহাড়ে নিখোঁজ বা মৃত পর্বতারোহীদের খোঁজে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “ছন্দা গায়েন, দীপঙ্কর ঘোষ, গৌতম ঘোষ, পরেশ নাথ, সুভাষ নাথদের মতো পর্বতারোহীদের মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য রাজ্য সরকার মাথাপিছু প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল বলে জানা যায়। কিন্তু নেপালের সংশ্লিষ্ট এজেন্সির দাবি, তারা সেই টাকা পায়নি। তাহলে সেই অর্থ কোথায় গেল?”
পিয়ালির আরও অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তিনি এই বিষয়গুলি তৎকালীন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে জানালেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এমনকি মন্ত্রীর দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলেও তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া ২০১৯ সালে এভারেস্ট অভিযানের সময় তাঁর উপর হামলার অভিযোগও তুলেছেন পিয়ালি। তাঁর দাবি, এক শেরপা তাঁকে মারধর করেছিলেন এবং অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে শীর্ষে ওঠা থেকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি এভারেস্ট জয় করতে সক্ষম হন।
উল্লেখ্য, এই সমস্ত অভিযোগ এখনও একতরফা। অভিযোগগুলির সত্যতা প্রশাসনিক বা আইনি তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। অরূপ বিশ্বাস বা সংশ্লিষ্টদের তরফে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও এখনও পাওয়া যায়নি।
