‘বটবৃক্ষ’ আরএসএসের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসেছে বিজেপি! মন্তব্য মোদির

0
45

নয়াদিল্লি: বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে জনগণের উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। প্রধানমন্ত্রী বললেন, সারা দেশে বিজেপির শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে। বিজেপি নেতা-কর্মীরা সেবার কাজ করছে। সেবার উপরে নির্ভর করে রাজনীতি করা হয় বিজেপিতে।’বটবৃক্ষ’ আরএসএসের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসেছে বিজেপি! ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠা দিবসে এই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।আর এখানেই রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন তাহলে কি বিজেপিকে আরএসএসের ছায়া থেকে সরে আসার বার্তা দিলেন নমো।
বিজেপির ৪৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবসের ভাষণে দলের কার্যকর্তাদের বার বার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানালেন, পশ্চিমবঙ্গ, কেরলে হিংসাকেই ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ করা হয়েছে। সেখানেও ভয় পাননি, মাথা নত করেননি বিজেপির কর্মীরা। পাশাপাশি, মোদী জানিয়ে দিলেন, দেশে তাঁর সরকার এখনও পর্যন্ত অনেক কাজ করলেও কিছু অভিযান জারি রয়েছে।

৬ এপ্রিল বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন বার্তা দিলেন। দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বড় বার্তা দিলেন। আর সেখানেই তাঁর বক্তব্যে উঠে এল বিশেষ বার্তা। মোদি বলেন, কত কম সময়ে আমরা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠেছি। পরিবেশ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমরা দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছি। লাগাতার কাজ করছি দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এই দায়িত্ব বিজেপিই পূরণ করতে পারে।বিজেপির প্রতিষ্ঠাত দিবসে কংগ্রেসকে খোঁচা দিতে ছাড়েন তিনি। মোদি বলেন, আমরা অনেক সরকারের অংশ ছিলাম, কিন্তু আমাদের পার্টি সবসময় জনসেবার অংশ ছিল। এই সেবা ধর্মের জন্যই সাধারণ মানুষের বিজেপির উপরে বিশ্বাস বেড়েছে। ১৯৮৪-র কথা ভোলা যায় না, যখন কংগ্রেস রেকর্ড আসনে জয়ী হয়েছিল, কিন্তু মানুষ দেখছিল যে কীভাবে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছিল কংগ্রেস। কংগ্রেস শুধু একটা পরিবারকে গুরুত্ব দিয়েছে। বাকিদের সঙ্গে অন্যায় করেছে। বিজেপি সকলকে উচিত সম্মান দেয়।

আরও পড়ুন: মনোনয়নের ডেডলাইনে সুপ্রিম হস্তক্ষেপ, রতুয়ার প্রার্থীকে ‘লাইফলাইন’ ট্রাইবুনাল শুনানি

তিনি আরও বলেন, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর নামে পরাক্রম দিবস, আন্দামানে ওঁর নামে দ্বীপ, ২৬ জানুয়ারির প্যারেডে আজাদ বাহিনীকে স্যালুট করা হয়েছে। বিজেপি রাষ্ট্রনেতাদের সম্মান দিয়েছে। আজ আমরা প্রতিরক্ষায় আত্মনির্ভর হচ্ছি। সীমান্তে সুরক্ষার জন্য নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে, যাতে ভারত সুরক্ষিত থাকে। নকশালবাদ, মাওবাদ দমন করা হয়েছে। বিজেপি আজ ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ গড়ার সংকল্পে এগোচ্ছে। দেশকে জুড়ছি আমরা। রাষ্ট্রসেবা করছি। রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতির অধীনে মাতৃভাষায় পড়ার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। আমরা বিশ্বকে পরিবার মানি। যুদ্ধের সময়েও সেই বিশ্বাস দেখা যাচ্ছে।আমরা সুশাসনের নজির হয়ে উঠেছি। আমরা দেশের মানুষকে দারিদ্রতা থেকে তুলে এনেছি।

মোদি বলেন, দেশে দীর্ঘ সময় পরে কোনও পার্টি এত জনমত পেয়েছে। এই সাফল্য নীতি, নিয়ম ও নিষ্ঠার দীর্ঘ যাত্রার ফল। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের বিশাল বটবৃক্ষের ছত্রছায়ায় রাজনীতিতে পা রাখার প্রেরণা পেয়েছি। আরএসএসকে বটবৃক্ষ বলে মোদি বলেন, সেই বটবৃক্ষের ছায়া থেকে এই সময়ের বিজেপি বেরিয়ে এসেছে। সারা দেশে নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন। মানুষের সেবায় রয়েছেন, সেই কথা তিনি জানিয়েছেন। তাহলে কি আরও একবার সংঘের সঙ্গে ব্র্যান্ড মোদির সংঘাত উসকে গেল? আরএসএসের থেকে মোদির আমলে বিজেপি বড় ভূমিকা পালন করছে! সেই চর্চা শুরু করলেন রাজনীতির কারবারিরা। আরএসএসের নীতিকথার বাইরে নরেন্দ্র মোদি, জয়প্রকাশ নাড্ডা, অমিত শাহরা দল চালাচ্ছেন, সেই অভিযোগও ওঠে অন্দরে! আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের সঙ্গে ব্র্যান্ড মোদির ঠোকাঠুকি লাগছে, মতানৈক্য হয়েছে! ৭৫ বছর বয়সের পর সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত সংঘপ্রধান দিয়েছিলেন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আর ভোটে লড়বেন না। সেই কথাও চর্চায় রয়েছে। আরএসএস-এর মতাদর্শ এবং মোদির উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here