বাঁকুড়া: আর কয়েক মাস পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনী লড়াইকে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষই মাঠে নেমেছে জোরকদমে। এরই মধ্যে বাঁকুড়ার (Bankura) তালডাংরায় বিজেপির (BJP) ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ ঘিরে চড়ল রাজনীতির পারদ। তৃণমূলকে নিশানা করলেন সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar), পাল্টা ঘাসফুল শিবিরের তরফেও দাগা হল তোপ।
মঙ্গলবার বাঁকুড়ার তালডাংরায় বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ (Parivartan Sankaklp Yatra) কর্মসূচির শেষে তালডাংরা বাজারে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি কর্মীসভার আয়োজন করা হয়। সেই সভার মঞ্চ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন সুকান্ত মজুমদার। একইসঙ্গে বাঁকুড়া জেলা স্তরের তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ২৬-র ভোটে দলে কোন্দল আটকাতে মিলিঝুলি রাজ্য কমিটি, কী হবে এবার
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তালডাংরা থানার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সম্প্রতি বিজেপি কর্মী ফাল্গুনী পালকে মারধরের অভিযোগ ওঠে এলাকার কয়েকজন তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সুকান্ত মজুমদার মঞ্চ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি পুলিশ এফআইআর নিতে অস্বীকার করে, তবে যেভাবে দলীয় কর্মীর হাত লাল করে দেওয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে থানার অবস্থাও লাল করে দেওয়া হবে। থানা আর থাকবে না।” পাশাপাশি আইনত ব্যবস্থা না নিলে পুলিশকে ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
সুকান্তর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তারাশঙ্কর রায় বলেন, মারধরের ঘটনা সম্পর্কে তাঁর নির্দিষ্টভাবে জানা নেই। তবে একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে সুকান্ত মজুমদারের মুখে এই ধরনের ভাষা মানায় না বলেই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, থানার দরজা সব সময়ই অভিযোগ গ্রহণের জন্য খোলা থাকে। পাশাপাশি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, জনসভায় লোক কম হওয়াতেই মেজাজ হারিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
দেখুন আরও খবর: