ওয়েব ডেস্ক : বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026)। তার আগে প্রচারে নেমে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। নতুন বছরের শুরু থেকেই বাংলার বিভিন্ন জেলায় প্রচার শুরু করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুক্রবার মতুয়াগড়ে সভা করেছিলেন। তার পর শনিবার বাঁকুড়ায় (Bankura) সভা করলেন তিনি। সেখান থেকে বিরাট বার্তা দিলেন অভিষেক।
শনিবার বাঁকুড়ার (Bankura) শালতোড়ায় সভা করলেন তৃণমূল সাংসদ। সেখান থেকে বিজেপি (BJP) ও এসআইআর (SIR) নিয়ে তোপ দাগলেন অভিষেক। এদিন সভার শুরুতেই বিজেপির রিপোর্ট কার্ড চাইলেন তিনি। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, “১২ বছর ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। রিপোর্ট কার্ড কোথায়?” সঙ্গে প্রশ্ন করেছেন, বাঁকুড়ার জন্য কী করেছে বিজেপি? অভিষেক বলেছেন, ‘আমাদের সরকার নিজেদের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসবে। বিজেপিও নিজেদের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুক। ভোকাট্টা করে মাঠের বাইরে বার করে দিতে না পারলে মুখ দেখাব না!”’ তিনি যে রিপোর্ট কার্ডের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, সেটা জানিয়েছেন অভিষেক।
অন্যদিকে এই সভা থেকে বিজেপিকে শূন্য করার ডাকও দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, ২০২১ এর বিধানসভা ভোটে বাঁকুড়ার ১২ আসনের ৪টি আপনারা তৃণমূলকে জিতিয়েছিলেন। বাকি ৮টি জিতেছিল বিজেপির প্রতিনিধিরা। ২০২৪ সালের লোকসভায় ৪ থেকে বেড়ে আমাদের ৬ হয়েছে। এখন তৃণমূল ছয়, বিজেপি ছয়। বাঁকুড়াকেও ছয় মারতে হবে। দু’টো ছয় মেরে তৃণমূলের পক্ষে ১২-০ করতে হবে।
এদিন এসআইআর নিয়েও আক্রমণ করতে দেখা যায় অভিষেককে (Abhishek Banerjee)। তিনি বলেন, ভোটা তালিকার সংশোধনের নামে অত্যাচার করা হচ্ছে বাঙালিদের উপর। সম্প্রতি একজন বিএলও আত্মহত্যা করেছেন। এদিন সভাস্থলে আসার আগে শুনেছি এসআইআর শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে কাঞ্চন মন্ডল নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। অভিষেক দাবি করেছেন, গত দু’মাসে এসআইআর-এর কারণে মৃত্যু হয়েছে ৭০ জনের। এর পরেই ক্ষোভের সুরে বলেছেন, এই করে বাংলার মানুষকে ভাতে নয়, বরং প্রাণে মেরেছে বিজেপি (BJP)। যারা আমাদের প্রাণে মারছে তাঁদেরকে রাজনৈতিকভাবে শিক্ষা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন অভিষেক। এসআইআর ইস্যুতে বাঁকুড়া জেলার বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ এবং ডাঃ সুভাষ সরকারকেও নিশানা করেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “সুভাষ সরকারের নিজের জন্মের সার্টিফিকেট আছে? সৌমিত্র খাঁয়ের জন্মের সার্টিফিকেট আছে?” এর পরেই তিনি বলেন, “বিজেপির কেউ সার্টিফিকেট চাইলে বলবেন, আগে তোমার বাবার সার্টিফিকেট নিয়ে এসো।”
আরও খবর : অভিষেকের সভায় বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ, বিরোধীদের কী অবস্থা?
বাংলাকে বঞ্চনা নিয়ে এদিন সভা থেকে ফের একবার সরব হয়েছেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্যের ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। দাবি করেছেন, এক একটি বিধানসভার ৬৮০ কোটি টাকা বিজেপি সরকার আটকে রেখেছে। সঙ্গে বলেছেন, বাঁকুড়া (Bankura) জেলার ৭ হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে বিজেপি। সেই টাকা কেন্দ্র সরকার ছাড়লে রাতারাতি সেই টাকা বাঁকুড়ার জন্য দিয়ে দেওয়া হবে।
এদিন বাঁকুড়ার পাথর খাদান নিয়েও তোপ দাগেন অভিষেক। বর্তমানে পাঁচটি খাদান চালু রয়েছে। ২০টি ক্রাশারের কাজ চলছে। ২৫০টির উপরে ক্রাশার রয়েছে। তবে এই খাদান চালু রাখতে একাধিক সরকারি অনুমতির প্রয়োজন। ডিরেক্টর জেনারেল অফ মাইনিং-এর এনওসি পেতে অনেক সময় লেগে যায়। আর খাদান চালু করতে হলে জমা রাখতে হয় ৩০ থেকে ৩২ লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে অনৈতিক ভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষও দিতে হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। অভিষেক আক্রমণ করে বলেন, ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিজেপি সাংসদ এখানে ছিলেন। ওদের লজ্জা লাগে না। কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাকে ঘুষ দিতে মানুষকে নিজেদের অধিকারের স্বার্থে লড়তে হয়। সেই সময় তাঁদের এত বড় বড় ভাষণ কোথায় থাকে?
লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) নিয়ে কেন্দ্রের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বিজেপির (BJP) লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করার হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন অভিষেক। এদিন তিনি বলেন, যত দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আছে পৃথিবীর কারুর ক্ষমতা নেই লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করার। বিজেপি জিতলে মায়েদের অধিকার কাড়বে, আর তৃণমূল জিতলে সেই অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।
শনিবার এই বাঁকুড়ার শালতোড়াতেই বিজেপি থেকে ঘাসফুলে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন ব্লক সভাপতি কালীপদ রায়। দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পরে নিজের ঘরেই ফিরে এলেন কালীপদ রায়। অপরদিকে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন বাঁকুড়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলর দিলীপ আগরওয়াল।
দেখুন অন্য খবর :