ওয়েব ডেস্ক: ভারত এখনও পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মূলপর্বে খেলতে পারেনি। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন এক ভারতীয় মহিলা (Indian Women Photojournalist)। ক্যামেরা হাতে অসম থেকে শুরু হওয়া গীতিকা তালুকদারের (Gitika Talukdar) যাত্রা আজ পৌঁছে গিয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ, অলিম্পিক এবং বিশ্বের একাধিক বড় ক্রীড়া মঞ্চে। ২০২৬ সালের পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপে অফিসিয়াল অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছেন গীতিকা তালুকদার। এর মাধ্যমে টানা তৃতীয়বার পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপ কভার করার বিরল নজির গড়লেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও মাঠের ধারে ক্যামেরা হাতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার এই সাফল্য রাতারাতি আসেনি। একটি ক্যামেরা, খেলাধুলার প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার জেদ থেকেই শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা।
অরুণাচল প্রদেশে জন্ম হলেও গীতিকার শৈশব কেটেছে ভারতের বিভিন্ন শহরে। বাবার চাকরির সূত্রে ছোটবেলা থেকেই একাধিক জায়গায় থাকতে হয়েছে তাঁকে। পড়াশোনা করেছেন বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি দেন দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলে। সেখানে সিওল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের স্কলারশিপও পান তিনি। সেই সময় ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্য নিয়েও গবেষণা করেছিলেন গীতিকা। পেশাজীবনের শুরু হয়েছিল একটি ফটো নিউজ এজেন্সিতে। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন স্পোর্টস জার্নালিজম এবং স্পোর্টস ফটোগ্রাফির জগতে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট কভার করার প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনার ক্লাবের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলেছিল ফ্রান্স! ১৯৭৮-এর এই ঘটনার কারণ জানলে চমকে উঠবেন
স্পোর্টস ফটোগ্রাফি মানেই শুধু গোল, ট্রফি বা সেলিব্রেশনের ছবি নয়। খেলোয়াড়ের মানসিক চাপ, দর্শকের উন্মাদনা, পরাজয়ের হতাশা কিংবা জয়ের মুহূর্তের আবেগ—সবকিছুকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ক্যামেরাবন্দি করাই এই পেশার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই জায়গাতেই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন গীতিকা। ফিফা বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। বিশ্বের হাজার হাজার সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারের মধ্যে সীমিত সংখ্যক মানুষকেই সুযোগ দেওয়া হয়। সেই প্রতিযোগিতার মধ্যেই ২০১৮ সালে প্রথমবার সুযোগ পান গীতিকা। এরপর ২০২২ এবং এবার ২০২৬ সালেও ফিফার আন্তর্জাতিক মিডিয়া কভারেজ টিমের অংশ হিসেবে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
এই স্বীকৃতিকে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম বড় মাইলস্টোন বলে মনে করেন গীতিকা। পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে শুধু ফুটবল নয়, তাঁর ক্যামেরা পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বের একাধিক বড় ক্রীড়া আসরে। অলিম্পিক থেকে আইপিএল, কমনওয়েলথ গেমস এবং একাধিক আইসিসি টুর্নামেন্টও কভার করেছেন তিনি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে মহিলা ক্রীড়া সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারদের উৎসাহিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি সরাসরি তাঁকে অ্যাক্রেডিটেশন দেয়। সেই স্বীকৃতি পাওয়া ভারতের প্রথম এবং একমাত্র মহিলা ফটোগ্রাফার ছিলেন গীতিকা তালুকদার।
দেখুন আরও খবর:
