পীযূষ কান্তি নাগ
ওয়েব ডেস্ক : নির্জলা গ্রাম। গ্রামের মানুষের টাকা তছরূপ, অবিলম্বে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীর কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। আদালতের মন্তব্য বিডিওর কাজ কি থানায় অভিযোগ দায়ের করে ঘার থেকে দায়িত্ব নামিয়ে দেওয়া? টাকা উদ্ধার করে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা করতে হবে হাইকোর্টে। নির্দেশ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।
নির্জলা হাবড়ার (Habra) অশোকনগরের কামারপুর গ্রামের গুমা ২ নম্বর পঞ্চায়েত। কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের। প্রসঙ্গত গ্রামের কৃষিকাজ ও মানুষের প্রাত্যহিক ব্যবহারের জন্য একটি বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপ স্থাপন করে জলসম্পদ বিভাগ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ওই নলকূপ পরিচালনার দায়িত্ব পায় পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী মনির হোসেন গাজী ও জাহাঙ্গীর মোল্লা। সিদ্ধান্ত হয় ওই নলকূপের বিদ্যুতের খরচ বহন করবে গ্রামবাসীরা। সেই মোতাবেক গ্রামবাসীরা সকলে বিদ্যুতের খরচ জমা দিত হোসেন গাজী ও জাহাঙ্গীর মোল্লার কাছে।
আইনজীবী উদয় শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় ও আইনজীবী বিদিশা চক্রবর্তীর অভিযোগ, ২০১৯ সাল থেকে গ্রামবাসীরা টাকা দিলেও হোসেন গাজী ও জাহাঙ্গীর মোল্লা সেই টাকা জমা দেয়নি। ফলে ২০২১ সালে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়। তখনই বিষয়টি গ্রামবাসীদের নজরে আসে। গোটা গ্রাম নির্জলা হয়ে পরে। গ্রামবাসীরা জল কষ্টে ভুগছে। বিডিও কে অভিযোগ জানিয়েও কোনও কাজ হয় নি। তাই আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন।
আরও খবর : বারুইপুর ‘এনকাউন্টার’-এর তদন্ত করবে সিআইডি
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ঘটনা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বিচারপতির মন্তব্য গ্রামবাসীরা কেন সমস্যায় থাকবে প্রশাসন কি চোখ বন্ধ করে বসে আছে?
রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান, ইতিমধ্যে বি ডি ও-র পক্ষ থেকে ওই দুই ব্যক্তির নামে অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাজ্যের আইনজীবীর এই সওয়ালের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, বি ডি ও কি শুধু অভিযোগ দায়ের করেই তার ঘাড় থেকে দায়িত্ব নামিয়ে দিয়েছেন। গ্রামবাসীদের সমস্যা সমাধানে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে? তাদের টাকা পুনরুদ্ধারের জন্য কি ব্যবস্থা করা হয়েছে?
রাজ্যের আইনজীবীর জানান, ইতিমধ্যে পুলিশ (Police) তদন্ত শুরু করেছে অভিযুক্তরা জামিনে রয়েছে। খুব তো ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির মন্তব্য টাকা কি উদ্ধার হয়েছে? রাজ্যের আইনজীবী জানিয়ে দেন এখনও পর্যন্ত টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চর নির্দেশ, অবিলম্বে বি ডি ও অশোকনগর থানার সহযোগিতায় অভিযুক্ত দুজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করবে। ওই দুই অভিযুক্তের কাছ থেকে গ্রামবাসীদের অর্থ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এ বিষয়ে বি ডিও কে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবে অশোকনগর থানা। আদালতের এই নির্দেশ বাস্তবায়িত করে তার রিপোর্ট আগামী ২১ শে জুলাই জমা করতে হবে বিডিও ও অশোকনগর থানার ওসিকে।
দেখুন অন্য খবর :
