কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ বিজেপির এক মুখপাত্রের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছে তৃণমূল। বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আর আগে মঙ্গলবার বিজেপির মুখপাত্র অজয় অলকের একটি সমাজমাধ্যম পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, ওই পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) সরাসরি ‘খুনের হুমকি’ দিয়েছেন বিজেপি নেতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন (Election Commission) – উভয় পক্ষকেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে ঘাসফুল শিবির।
সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট করাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়েই কড়া ভাষায় হুমকি দিচ্ছেন কমিশন নিযুক্ত যোগীরাজ্যের ‘সিংঘম’ অজয় পাল শর্মা। এমনকী প্রার্থীকেও ছাড়ছেন না। তা নিয়ে ইতিমধ্যে যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে। এর মাঝে ওই পুলিশ অফিসারের হুমকির ভিডিওটি শেয়ার করে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। আর তাঁর পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে দলের অন্যতম সর্বভারতীয় মুখপাত্র অজয় অলোক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে গুলি করার হুমকি দেন। মঙ্গলবার তৃণমূলের তরফে একটি ‘স্ক্রিনশট’ শেয়ার করা হয়। সেখানে দেখা যায়, বিজেপি মুখপাত্র অজয় অলক একটি পোস্ট করেছেন।‘স্ক্রিনশটে’ দেখা যাচ্ছে ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ নামে খ্যাত উত্তরপ্রদেশের পুলিশ আধিকারিক অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন বিজেপি নেতা অমিত মালবীয়। মালবীয়ের পোস্ট শেয়ার করে অজয় হিন্দিতে লিখেছেন, “লাতো কে ভুত বাতোঁ সে নেহি মানতে। রেজাল্ট আনে তক কহিঁ নিপট না যায়ে। ডরায়েগা তো ঠোকায়েগা।” বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়—ফলাফল বেরোনোর আগে যেন কোথাও গন্ডগোল না হয়— ভয় দেখালে কিন্তু পাল্টা তা ফিরে আসবে, দিদি। এক্স পোস্টে তিনি মমতাকে ট্যাগ করেছেন।তৃণমূলের অভিযোগ, ওই পোস্টের ভাষা তিন বারের নির্বাচিত একজন নারী মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে চরম অবমাননাকর এবং প্রাণহানিকর।
আরও পড়ুন: চটুল নাচ যোগীরাজ্যের ‘সিংঘম’-এর ভিডিও দেখিয়ে খোঁচা মহুয়া-অখিলেশের
ওই স্ক্রিনশট পোস্ট করে সমাজমাধ্যমে বিজেপি-কে আক্রমণ করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাজকর্মে এই ধরনের কুৎসিত সংস্কৃতি মান্যতা পাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখা হয়েছে, “ইউপি-বিহারের ‘গুলি মারো’ আর ‘ঠোক দো’ সংস্কৃতি এবার বাংলায় আমদানি করতে চাইছে বিজেপি। তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন বললেন, ”এসব বাংলায় চলে না। ৪ মে ব্যালট বাক্স খোলা হলে এর জবাব পাবে।”তৃণমূল আরও প্রশ্ন তুলেছে, যদি রাজ্যের খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেই এভাবে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়, তবে বাংলার সাধারণ মহিলাদের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে?

