বহরমপুর: রাজ্যের পালা বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একের পর এক দাবাং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অবৈধ নির্মাণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) জিরো টলারেন্স বার্তার পর রাজ্যজুড়ে অ্যাকশন। নতুন সরকার গঠন হতেই একের পর এক রেলস্টেশন চত্বরে বুলডোজার চালাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। মাটির বাড়ি থেকে চায়ের দোকানে চলছে রেলের বুলডোজার। ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দরিদ্র মানুষগুলির মাথা গোঁজার ঠাঁই। যার জেরে গৃহহীন হয়েছেন বহরমপুরের কাশিমবাজার রেল স্টেশন (Cossimbazar Railway Station) সংলগ্ন বহু দরিদ্র মানুষ। এমনকি তাঁদের এক চিলতে করে দোকান ঘরগুলিও ভেঙে দিয়েছে রেলের বুলডোজার। এবার পালা বহরমপুর কোর্ট স্টেশনের (Berhampore Court Railway Station)। আগামীকাল মঙ্গলবার সেখানেও চলবে বুলডোজার! আর তাতেই চিন্তার ভাঁজ স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীরা। অথচ দীর্ঘ ৩০-৪০ বছর ধরে রেলের ওই জায়গাতেই চা বিস্কুট বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছিলেন দরিদ্র ওই মানুষেরা। নতুন সরকার তাঁদের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে, এতদিন ভালোই ছিল, বলছেন ওই ‘ব্রাত্য ‘ দোকানদার জীবন দাস সহ অনেকেই।
বহরমপুর কাশিমবাজার রেল স্টেশনের বাইরে দীর্ঘ বছর ধরে বসবাস করছিলেন এলাকার বেশ কিছু দরিদ্র মানুষ। রেলের আশেপাশেই হকারি করে, কেউ বা চা- বিস্কুট, মুড়ি -চানাচুর বিক্রি করে সংসার চালাতেন। ওই বৈধ ভোটাররা এবারেও ভোট দিয়েছেন। কিন্তু পালা বদলের পর তাদের উপর চলল বুল ডোজার। গত তিনদিন আগে সেখানে রেল কর্তৃপক্ষ বুলডোজার চালিয়ে সেই বাড়ি ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। এখন গাছের নিচে ত্রিপল টাঙিয়ে বাস করছেন ওই অসহায় মানুষেরা। তিনকড়ি দাস বলেন,৪০ বছর ধরে ওই জায়গায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। একদিনে সব শেষ হয়ে গেল! ওই ভাঙা জায়গার ওপরেই চৌকি পেতে রাত্রে ঘুমাচ্ছেন তিনি সহ তাঁর স্ত্রী।
আরও পড়ুন: কুণাল ঘোষকে ঘিরে বিক্ষোভ, ‘চোর’ স্লোগান, উত্তপ্ত বেলেঘাট
ঝড়বৃষ্টি হলে স্টেশনে ঠাঁই নিচ্ছেন তিনি সহ তার পরিবার। নিয়তি রাজবংশী বলেন , স্বামী নেই তাঁর, এক ছেলে অসুস্থ। দুই ছেলে সহ তাঁর দুই বৌমা নিয়ে সংসার। তাঁর দোকান এবং বাড়ি দুটোই ভেঙে দিয়েছে রেলের লোকেরা। ওই রেল লাইনে ঝাঁপ দিয়ে স্বপরিবারে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই তাঁদের। এদিকে আগামী ২৬ মে মঙ্গলবার বহরমপুর কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন রাস্তায় প্রচুর দোকান ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। আর তাতেই মহা চিন্তায় ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা। এলাকার ব্যবসায়ী জীবন দাস বলেন,অনেক আশা নিয়ে মানুষ ভোট দিয়েছেন,নতুন সরকার গড়েছেন। কিন্তু সেই আশা ভেঙ্গে চুরে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে এবার চুরি ছিনতাই করতে হবে। সরকারের উচিত তাঁদের মতো দরিদ্র মানুষকে পুনর্বাসন দেওয়া। অন্যদিকে বহরমপুর কোর্ট স্টেশনের পর বেলডাঙা রেল স্টেশন চত্ত্বরে অবৈধ দোকানগুলিকে উচ্ছেদ করবে রেল কর্তৃপক্ষ বলে জানা গেছে।
