ওয়েব ডেস্ক : মুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে পরিবারের একাধিক প্রশ্নের উত্তর মিলছিল না বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের (Hospital) কর্মীদের কাছ থেকে দুর্ব্যবহারের মুখে পড়ারও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তমলুকের তাম্রলিপ্ত গভমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
রোগীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘার বাসিন্দা জ্যোৎস্না পানি অসুস্থ হয়ে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে তমলুকের মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কিডনির সমস্যা থাকা ওই বৃদ্ধার চিকিৎসা নিয়ে তাঁরা একাধিক বিষয়ে জানতে চাইলেও সন্তোষজনক পরিষেবা পাচ্ছিলেন না। বিশেষ করে ইনসুলিন দেওয়ার নিয়ম এবং খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে জানতে গিয়ে দুর্ব্যবহারের মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ।
শনিবার সকালে তমলুক হাসপাতাল (Hospital) মোড়ে ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’-এর একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। সেখানেই রোগীর ছেলে প্রদীপ পানি জেলাশাসকের কাছে বিষয়টি জানান। অভিযোগ শোনার পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আর দেরি করেননি জেলাশাসক। সহ-আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি মেডিক্যাল কলেজের ওয়ার্ডে পৌঁছে যান তিনি।
আরও খবর : নিউ ফরাক্কায় সারল রেললাইন, রবিবার থেকেই স্বাভাবিক পথে ট্রেন
হঠাৎ জেলাশাসককে ওয়ার্ডে দেখে হাসপাতাল (Hospital) চত্বরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা নার্স এবং বিভাগীয় চিকিৎসকদের ডেকে পাঠান তিনি। রোগীর পরিবারকে চিকিৎসা, ওষুধ ও ইনসুলিন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন জেলাশাসক।
পরিদর্শনের পর নিরঞ্জন কুমার জানান, রোগীর আত্মীয়দের ওষুধ বা ইনসুলিন নিয়ে প্রশ্ন কিংবা অসন্তোষ থাকতেই পারে। সেক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পরিবারের সঙ্গে সঠিকভাবে কথা বলে তাঁদের বিষয়গুলি বোঝাতে হবে। প্রয়োজনে ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে চিকিৎসকদের কাছ থেকে তথ্য জেনে নিয়ে রোগীর পরিবারকে তা জানানোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। জেলাশাসকের দ্রুত হস্তক্ষেপে আপাতত অনেকটাই আশ্বস্ত রোগীর পরিবার। অভিযোগ পাওয়ার পর সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখায় তাঁদের ক্ষোভও কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
