ওয়েব ডেস্ক : রবিবার দুপুরে দিল্লির (Delhi) সত্যা নিকেতনে আচমকা ভেঙে পড়ল পাঁচতলা একটি ভবন (Building Collapsed)। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে ঘিঞ্জি গলিতে থাকা ওই বাড়িটিতে মূলত ছেলেদের পেইং গেস্ট বা হস্টেল চলত। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আট জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রায় ৫০ বছরের পুরনো ওই ভবনে একটি বেসমেন্টের পাশাপাশি উপরে পাঁচটি তলা ছিল। রবিবার দুপুর সাড়ে ১টা নাগাদ বেসমেন্টে মেরামতির কাজ চলাকালীনই আচমকা গোটা কাঠামো ভেঙে পড়ে বলে এক আধিকারিক জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বেসমেন্টে জল জমেছিল। সেই জলেই বাড়িটির ভিত দুর্বল হয়ে গিয়ে ধস নেমে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাঁদের অনুমান, ৪০ থেকে ৫০ জনের মতো সেখানে আটকে রয়েছেন। যদিও ঠিক কতজন নিখোঁজ বা ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত করেনি প্রশাসন। উদ্ধারে এনডিআরের দুই দল নামানো হয়েছে। প্রায় ৭০ জন কর্মীর পাশাপাশি রয়েছে প্রশিক্ষিত কুকুর। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডারও পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে দমকলের ইঞ্জিন।
আরও খবর : উত্তর সিকিমে ভয়াবহ ধস, আংশিক বাধাপ্রাপ্ত তিস্তা-চিয়াকুংয়ের প্রবাহ
অত্যন্ত সরু ও ঘিঞ্জি গলির কারণে উদ্ধারকাজে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আশপাশের এলাকায় একাধিক খাবারের দোকান ও পিজি রয়েছে। জানা গিয়েছে, ‘হস্টেল ডেজ’ নামে পরিচিত ওই ভবনে প্রায় ১৫টি ঘর ছিল এবং প্রতিটি ঘরে দুই থেকে তিন জন করে পড়ুয়া থাকতেন। মূলত কেরল, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের পড়ুয়ারা সেখানে থাকতেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরনজিৎ সিং সান্ধু, পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার ও এনডিএমএ-র ডিজির সঙ্গে কথা বলেন। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
