ওয়েব ডেস্ক : রাজ্যের কলেজগুলিতে ছাত্র সংসদ বা ইউনিয়ন রুম নিয়ে একের পর এক বিতর্কের আবহে এবার কড়া পদক্ষেপ করল উচ্চশিক্ষা দফতর। বিকাশ ভবন (Bikash Bhavan) থেকে জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, যেসব কলেজে (College) এখনও ইউনিয়ন রুমে তালা লাগানো হয়নি, সেখানে অবিলম্বে তালা দিতে হবে। পাশাপাশি, ইতিমধ্যেই তালাবদ্ধ থাকা কোনও ইউনিয়ন রুম খোলার প্রয়োজন হলে তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই করতে হবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইউনিয়ন রুম (Union Room) খোলার সময় অধ্যক্ষ বা টিচার-ইন-চার্জ, অফিসার-ইন-চার্জ, শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। পুরো প্রক্রিয়ার ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করতে হবে এবং ঘরের ভিতরে কী কী উদ্ধার হল, তার বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে উপস্থিত সকলের স্বাক্ষর নিতে হবে। কোনও ইউনিয়ন রুম থেকে সন্দেহজনক বা অযাচিত সামগ্রী উদ্ধার হলে তা অবিলম্বে কলেজের গভর্নিং বডি এবং ডিরেক্টর অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন (ডিপিআই)-কে জানাতে হবে বলেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতর।
আরও খবর : রাজ্যের নতুন নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত
সম্প্রতি শিয়ালদহের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ-সহ রাজ্যের একাধিক কলেজের ইউনিয়ন রুমে বেডরুম, খাট ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। পাশাপাশি, কলেজে ভর্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগও সামনে আসে। এরপরই বিভিন্ন কলেজের ইউনিয়ন রুমের অডিট শুরু করে শিক্ষা দফতর। উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনওভাবেই কলেজ চত্বরে দাদাগিরি, তোলাবাজি বা আসন বিক্রির মতো অভিযোগ বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর কথায়, গত কয়েক বছরে ভর্তি মরশুমে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই কারণেই এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে সরকার।
মন্ত্রী আরও জানান, আদালতের নির্দেশ মেনেই ইউনিয়ন রুমগুলিকে সুরক্ষিত রাখা এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্ত কলেজকে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তার রিপোর্ট বিকাশ ভবনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেখুন অন্য খবর :
