ওয়েব ডেস্ক : এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ঘিরে বিক্ষোভে আটক ছাত্রছাত্রী ও যুব কংগ্রেস কর্মীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠল দিল্লিতে। বুধবার সাংবাদিক বৈঠক করে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের মারধরে কেরল থেকে আসা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর একটি কানে শোনার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে কয়েকজন বিক্ষোভকারীও তাঁদের উপর শারীরিক নির্যাতন ও হেফাজতে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ধরেন।
কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই এবং যুব কংগ্রেসের কর্মীরা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। তাঁদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করতে হবে। মঙ্গলবার কনট প্লেসের রাজীব চক মেট্রো স্টেশনের ৭ নম্বর গেটের কাছে বিক্ষোভ দেখান এনএসইউআই কর্মীরা। তাঁদের কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। এরপর সংগঠনের সদস্যদের, বিশেষ করে মহিলা বিক্ষোভকারীদের মারধরের অভিযোগ তুলে কনট প্লেস থানার বাইরে ধর্নায় বসেন সংগঠনের কর্মীরা।
বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকে কেরলের বাসিন্দা তথা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আথিরা অভিযোগ করেন, মহিলা পুলিশকর্মী ছাড়াই তাঁকে একটি পুলিশ বাসে আটক করে রাখা হয়েছিল। মহিলা কনস্টেবলের উপস্থিতির দাবি জানালে বাসটি কনট প্লেস থানার বাইরে থামানো হয়। সেখানে পুলিশকর্মীরা বারবার তাঁর মুখে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর। রাহুল গান্ধী দাবি করেন, আথিরার একটি কানে শোনার ক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। তাঁর কথায়, এর আগেও এক বিক্ষোভকারীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা তিনি সামনে এনেছিলেন; এবার এক ছাত্রীর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আরও খবর : স্টিং অপারেশন কাণ্ডে স্বস্তি সিদ্দারামাইয়ার, বিতর্কিত ভিডিয়ো সম্প্রচারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা
এনএসইউআইয়ের এক মহিলা কর্মীও এক মহিলা কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন। রাহুল তাঁকে ‘শেরনি’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন। ওই কর্মীর দাবি, চঞ্চল যাদব নামে এক কনস্টেবল বাসের ভিতরে তাঁর গলা চেপে ধরেন, আসনে ফেলে দেন, মুখে আঁচড় দেন এবং চড় মারেন। তাঁর কানের দুল কানের নরম টিস্যুর মধ্যে ঢুকে গিয়ে ক্ষত তৈরি করে বলেও অভিযোগ। কনট প্লেস থানার ১০৭ নম্বর ঘরেও সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন বলে দাবি ওই কর্মীর।
অন্য এক বিক্ষোভকারীর অভিযোগ, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার ভিতরে ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশকর্মী তাঁকে ও তাঁর এক সহকর্মীকে মারধর করেন। দিল্লির উপকণ্ঠে নিয়ে যাওয়ার সময় অঙ্কিত কাসানা নামে এক কনস্টেবলও তাঁদের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারী লাঠি দিয়ে মারধর, গোপনাঙ্গে লাথি মারা এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কিছু বিক্ষোভকারীর দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও মোবাইল ফোন ও টাকা ছাড়া শহরের বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।আটক বিক্ষোভকারীদের মোবাইল ফোন থেকে নির্যাতনের ভিডিয়ো মুছে ফেলতে ফোন ফরম্যাট করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিক বৈঠকে সামর নামে এক বাঁশিবাদককেও সামনে আনেন রাহুল গান্ধী। তিনি ‘বৈষ্ণব জন তো’ ভজন পরিবেশন করেন। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে বলপ্রয়োগের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই পরিবেশনাকে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। সামরের দাবি, ১১ অক্টোবর তাঁকে আটক করা হয়েছিল এবং সাধারণ পোশাকে থাকা পুলিশকর্মীরা তাঁকে মারধর করেন। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীর সদস্যরাও ভয় দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
রাহুল গান্ধী ছাত্রছাত্রীদের পুলিশি আচরণের ভিডিয়ো রেকর্ড করে প্রমাণ সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বিক্ষোভ পর্ব শেষ হলে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ কাজে লাগিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবে কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার থেকে শুরু করে অভিযুক্ত পুলিশকর্মী—যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
