নিউটাউন: নির্বাচনে মতুয়া (Matua) ভোট ফ্যাক্টর, এসআইআর–এ প্রায় ৬ হাজার ভোটারের নাম বাতিলের খাতায়। নাগরিকত্বের প্রশ্নে বিজেপিতে মোহভঙ্গ, প্রতিশোধের ভোট দেবেন ক্ষুদ্ধ মতুয়ারা। এসআইআরের মতুয়াদের নাম ডিলেট হতেই রাজারহাট নিউটাউনের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তাপস চ্যাটার্জির হয়ে প্রচারে নামলেন মতুয়া মহা সংঘের মুখ নবীন বিশ্বাসের (Nabin Biswas)। গত পাঁচ বছর আগে যার বাড়িতে বসে মধ্যাহ্ন ভোজ সেরেছিলেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah), সেই নবীন বিশ্বাস এবার মতুয়াগড়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে ভোট চাইছেন মানুষের কাছে।
মোদি সরকার এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের
এসআইআর–এর গুঁতোয় ভোগান্তি, হতাশা, আতঙ্ক এবং ক্ষুদ্ধ কলকাতার উপকন্ঠ নিউটাউনের মতুয়া গড়। অল্প সময়ের মধ্যে বিজেপির এই তুঘলকি সিদ্ধান্তের নির্যাস কি ডিটেনশন ক্যাম্প? নাকি পুশ ব্যাক? দেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার এই বিরাট দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল বিধানসভা ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন রাজারহাট–নিউটাউনের মতুয়ারা। হাজার হাজার মতুয়ার (Matua) নাম বাদ গিয়েছে শুধু রাজারহাট নিউটাউন (Rajarhat New Town) বিধানসভা অঞ্চলেই। আর এই ঘটনাতেই ক্ষুব্ধ অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। সঙ্ঘের কার্যকরী সভাপতি জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন মতুয়ারা।
আরও পড়ুন: ভবানীপুর কেন্দ্রে বিচারাধীন ১৪ হাজারের মধ্যে, চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ গেল কতজনের?
সালটা ২০২০ ৬ নভেম্বর। ২০২১ সালের ভোটের আগে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিউটাউনের মতুয়া ‘মুখ’ নবীন বিশ্বাসের জ্যোতিনগরের বাড়ি গিয়েছিলেন। দিল্লি থেকে উড়ে আসা খাদ্য বিশেষজ্ঞদের বিশেষ নজদারিতে নবীনবাবুর স্ত্রী সুচন্দ্রা বিশ্বাসের হাতে বানানো রুটি, ডাল, সবজি, ধোকলা, নলেন গুড়ের পায়েস তৃপ্তি সহকারে হরেক পদে মধ্যাহ্নভোজ সেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস জুগিয়েছিলেন, বিজেপি সরকার আছে। মতুয়ারা এ দেশের নাগরিকত্ব পাবেনই। আবার একটা বিধানসভা ভোট ঘুরে আসতেই কার্যত মোহভঙ্গ মতুয়ারা। এলাকা ঘুরে জানা গেল মতুয়াদের গলায় আক্ষেপ, ‘মিত্র’–র প্রতিশ্রুতিই সার হল! এসআইআর’র নামে নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ বড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়ে বিজেপি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আগামীতে যার মাশুল গুনতে হবে অমিত শাহদের। রাজনৈতিক মহল বলছে, প্রতি নির্বাচনে রাজারহাট–নিউটাউন বিধানসভার কেন্দ্রে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট একটা বড় ফ্যাক্টার। ১৯৭১ সালে দেশ ভাগের যন্ত্রনায় বলি হয়ে ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলায় অস্তানা গেঁড়েছিলেন ছিন্নমূল উদ্ববাস্তুরা। এই মুহূর্তে নিউটাউন কেষ্টপুর–বাগজোলা খালপাড় সংলগ্ন বিধাননগর পুরসভা অধীনস্থ ২০, ২১, ১৪, ১ নম্বর ওয়ার্ড সহ বিস্তীর্ণ জ্যাংড়া–হাতিয়াড়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা মতুয়া গড় হিসেবে পরিচিত। গত জানুয়ারী মাসে কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজারহাট–নিউটাউন বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ৯১৮টি। যারমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার মতুয়া ভোটার রয়েছে।
বর্তমানে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের কার্যকরী সভাপতি নবীন বিশ্বাস। এক তপ্ত দুপুরে জ্যোতিনগরের বাড়ির অফিসে বসে নবীনবাবুর আক্ষেপ, ‘‘বিজেপির খপ্পড়ে মতুয়াদের জীবন এখন বিপর্যস্ত। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের এসআইআর’–র ফাঁদে সুধাংশু সরকার, গণেশ মণ্ডল সহ প্রায় ৬ হাজার মতুয়াদের নাম বাতিলের খাতায় ধরা হয়েছে। তাই ভোটের লাইনে মতুয়ারা প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত।’’ অথচ নিউটাউনের মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটাদের ট্র্যাডিশন হচ্ছে, বিজেপির দিকে ঝুঁকে থাকা। তবে এবার এসআইআর গুঁতোয় সেই চিত্রটার বিরাট বদল এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। তবে রাজারহাট নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোড়িয়ার আশ্বাস, আমরা জিতে এলে মতুয়ারা অনেকেই নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন। পালটা তৃণমূল–কংগ্রেস প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ের জবার, বিভাজনের রাজনীতি করে বিজেপি। এখন বিজেপি ও কমিশনের যোগসাজশে অনেকেই নাগরিকত্বও হারাতে বসেছে। মানুষ ভোটবাক্সে প্রতিশোধ তুলবে।

