কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার বদলের ছাপ স্পষ্ট বিধানসভাতেও (West Bengal Assembly)। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছবি ইতিমধ্যেই সরানো হয়েছে বিধানসভার একাধিক মন্ত্রীর ঘর থেকে। একইসঙ্গে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ এবং ডেপুটি চিফ হুইপ বা সহকারী মুখ্য সচেতকের ঘর আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে। ওই চারটি ঘরে আপাতত কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেই জানা গিয়েছে।
বিধানসভা চত্বরে এখন কার্যত তৎপরতার চূড়ান্ত ছবি। বিশেষ করে অ্যানেক্স বিল্ডিং ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জোর জল্পনা। সূত্রের খবর, সেখানেই তৈরি হতে পারে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। গত কয়েকদিন ধরেই পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা বারবার ওই ভবন পরিদর্শন করছেন। চলছে পরিকাঠামোগত খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজ। কর্মীদেরও দেওয়া হচ্ছে নতুন নির্দেশ।
আরও পড়ুন: রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, যান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি কলকাতা পুলিশের
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বিধানসভা চত্বরে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের করিডরের সামনেও বসানো হয়েছে পুলিশ প্রহরা। গোটা বিধানসভা ভবনেই বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
এদিন আরও একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করা হয়েছে। খুলে দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘর। ২০২২ সালের জুলাই মাসে গ্রেফতারের পর থেকেই বন্ধ ছিল সেই কক্ষ। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের পাশেই রয়েছে ওই ঘরটি। নতুন সরকার গঠনের পর কোন মন্ত্রী সেই ঘর পান, তা নিয়েও এখন শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জল্পনা।
অন্যদিকে, শনিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে বিধানসভা সাজানোর কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। স্পিকারের ঘরে নতুন আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘরও খুলে পরিদর্শন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে লোক ভবন। রাজ্যপাল আর এন রবির দফতরের তরফে প্রকাশিত সেই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৭ মে থেকেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের ব্যাখ্যা, বিধানসভা ভেঙে যাওয়ার অর্থ বর্তমান সরকারও কার্যত আর ক্ষমতায় নেই। যদিও রাজ্যপাল আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরখাস্ত করেননি, আবার নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত তাঁকে ‘তদারকি মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেও দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেননি। ফলে রাজ্যের প্রশাসনিক পরিস্থিতি এখন এক অদ্ভুত অন্তর্বর্তী পর্যায়ে দাঁড়িয়ে।
