ওয়েব ডেস্ক : সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) নিয়ে আন্তর্জাতিক শালিসি আদালতের নির্দেশ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল ভারত (India)। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বক্তব্য, ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়ে এই আদালতের কোনও ধরনের এখতিয়ার নেই। পাকিস্তানের সঙ্গে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্তও বহাল রয়েছে।
শালিসি আদালত সম্প্রতি জানিয়েছে, ভারত (India) চুক্তিটি বাতিল বা স্থগিত করার যথেষ্ট কারণ দেখাতে পারেনি। আদালতের দাবি, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে জলবণ্টন সংক্রান্ত এই চুক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে। তবে সেই বক্তব্যকে মান্যতা দিতে নারাজ ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই তথাকথিত আদালত বিশ্বব্যাঙ্কের মাধ্যমে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে গঠিত হয়েছিল। তাই এই সংস্থার দেওয়া সিদ্ধান্তকে ভারত গ্রহণ করছে না। নয়াদিল্লির দাবি, এই সংস্থার গঠনই সিন্ধু জলচুক্তির সঙ্গে গুরুতরভাবে সাংঘর্ষিক।
আরও খবর : গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে ভয়াবহ হড়পা বান, নিখোঁজ ২০-র বেশি! উদ্ধার এক ব্যক্তির দেহ
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর গত বছর ২৩ এপ্রিল সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। ওই হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ করে নয়াদিল্লি। ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলার বিষয়ে যাচাইযোগ্য ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত জলচুক্তির কার্যক্রম স্থগিতই থাকবে।
এদিকে সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু নদীর জল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বণ্টনের কাঠামো নির্ধারিত হয়েছিল। পাকিস্তান ভারতের কিশনগঙ্গা ও রাতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা নিয়ে আপত্তি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। শুরু থেকেই সেই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছে ভারত।
নয়াদিল্লির যুক্তি, এই ধরনের বিরোধ মূলত প্রযুক্তিগত এবং চুক্তিতে নির্ধারিত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। একই বিষয়ে একই সময়ে শালিসি আদালতের হস্তক্ষেপ চুক্তিতে নির্ধারিত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থার পরিপন্থী বলেই দাবি ভারতের। ভারত আরও জানিয়েছে, তারা ওই আদালতের সামনে কখনও উপস্থিত হয়নি এবং এর আগের কোনও সিদ্ধান্তকেও স্বীকৃতি দেয়নি। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, ভবিষ্যতেও এই তথাকথিত আদালতের কোনও নির্দেশ ভারতের প্রকল্প বা সার্বভৌম সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলবে না।
