ওয়েব ডেস্ক :ব্রিকসের (BRICS Summit) যৌথ বিবৃতি ঘিরে তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ঐকমত্য তৈরি করতে সক্ষম হল ভারত। সূত্রের খবর, আলোচনা এতটাই দীর্ঘায়িত হয় যে শনিবার ভোর প্রায় ৪টা পর্যন্ত বৈঠক চালাতে হয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরান (Iran) ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হয়েছিল। সেই মতবিরোধের জেরেই যৌথ বিবৃতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ভারতের নেতৃত্বে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় আনার চেষ্টা করা হয়। ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশগুলিও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল, কোনও যৌথ ঘোষণা ছাড়াই যেন শীর্ষ সম্মেলন শেষ না হয়।
এর আগে ভারতের সভাপতিত্বে মে মাসে ব্রিকসের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই বৈঠকে শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ইরান (Iran) চেয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ‘আগ্রাসন’-এর স্পষ্ট নিন্দা করা হোক। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ইরানের হামলার বিষয়টি তুলে ধরেছিল।
এবার সেই পুরনো মতবিরোধ কাটিয়ে যৌথ বিবৃতিতে সম্মতি আদায়কে ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ব্রিকস সম্মেলনের (BRICS Summit) আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠকও হয়েছিল। সেই বৈঠকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছিলেন মোদী।
আরও খবর : ডলার সরানোর পরিকল্পনা নেই, ব্রিকসে ডিজিটাল মুদ্রার পথে ভারত! দিল্লির প্রস্তাব ঘিরে বাড়ছে চর্চা
একইসঙ্গে সম্মেলনের আগে আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে একদিকে ইরান, অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পরস্পর বিরোধী অবস্থানে থাকা দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় তৈরিতে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই যৌথ বিবৃতি প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তীব্র ভূ-রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যেও সদস্য দেশগুলিকে একমত করানোর এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকার গুরুত্ব আরও বাড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।
