নয়াদিল্লি: আইপ্যাক মামলায় (I-PAC Case) সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) কাছে ফের সময় চাইল রাজ্য।বুধবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়া বেঞ্চে ফের সময় চেয়ে আবেদন জানান রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল। কলকাতায় আইপ্যাকের অফিস এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈন-এর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছিলেন ইডির আধিকারিকরা। তথ্য প্রমাণ ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং এন ভি আঞ্জারিয়া-র বেঞ্চে চলছে আইপ্যাক মামলার (I-PAC Case in Supreme Court) শুনানি।ইডি বনাম রাজ্য, আদতে কেন্দ্র বনাম রাজ্য সংঘাতের আবহে আজ শুরু হয়েছে শুনানি।বুধবার শুনানি শুরু হতেই জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী।
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী জবাব দেওয়ার জন্য সময় চাইতেই এর বিরোধিতা করেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতার বক্তব্য, “সময় নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ।” ইতিমধ্যেই রাজ্যকে যে আদালত চার সপ্তাহ সময় দিয়ে দিয়েছে, তা স্মরণ করান বিচারপতি। বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল তখন বলেন, ” আমরা রিজয়েনডার জমা দিতে চাই।”সলিসেটর জেনারেল তুষার মেহেতার বক্তব্য, ” এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার, যে একজন মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করছেন। ৪ সপ্তাহ পরেও তাঁরা কিছু জমা দেওয়ার জন্য সময় চাইছেন।” তখন রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দেওয়ান সওয়াল করেন, “আমরা আমাদের বক্তব্য জমা দেওয়ার সময় পাচ্ছি না।” তাতে বিচারপতির বক্তব্য, সময় নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। কারণ ইতিমধ্যেই চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়ে গিয়েছে।
মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, “ইডি কোনও কর্পোরেট সংস্থা নয়। তাদের মামলা করার অধিকার নেই। মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন থাকতে হবে। ইডির তো কোনও মৌলিক অধিকারই নেই, তাই তার লঙ্ঘনও হতে পারে না।” শ্যাম দিওয়ান বলেন, সিবিআই, ডিআরআই, এসএফআইও, আইবি কারও মামলা করার কোনও অধিকার নেই। এমনকি সিআইডি, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মামলা করার ক্ষমতা নেই। যদি এই ক্ষমতা দেওয়া হয়, এই সব সংস্থাই একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করতে শুরু করবে। পুরো নিয়ন্ত্রণ এবং ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে।বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র বলেন, মামলা করার অধিকার কার রয়েছে এই নিয়ে সওয়াল করা হচ্ছে?
আরও পড়ুন: আইপ্যাক মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্যের আইনজীবী
আপনারা বলছেন সংবিধানের ২২৬ সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী যদি তদন্তে ঢুকে পড়ে তখন ইডি কী করবে? সলিসিটর জেনারেলের অভিযোগ অনুযায়ী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের সময় গিয়ে হস্তক্ষেপ করে তার বিচার কিভাবে হবে। একটা নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনে তো যে অন্য কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত চলাকালীন গিয়ে বাধা দেবে সেক্ষেত্রে কি হবে? এই ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া কোন আইনের দ্বারা হবে?এটা মোটেও সুখকর পরিস্থিতি নয়।একেবারেই অনভিপ্রেত ঘটনা।
রাজ্যের আইনজীবী শ্যাম বলেন, “সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও রেফারেন্স শুনানির জন্য ন্যূনতম পাঁচ জন বিচারপতি থাকতে হবে। এখানে ইডি আইনগত প্রশ্ন তুলেছে।” শ্যাম দিওয়ান বলেন, ইডি অনুচ্ছেদ ৩২, ধারা ২২৬, ধারা ২২৭ বহাল রাখতে পারে না, মামলাও করতে পারে না। এমন নয় যে এই পরিস্থিতিতে কোনও প্রতিকার নেই। ভারত সরকার মামলা করতে পারে। এই অধিকারটি ধারা ৩০০ থেকে এসেছে। যদি আমরা ইডি-কে মামলা করার অনুমতি দিই, তাহলে তা অন্যান্য বিভিন্ন বিচারিক ও তদন্তকারী সংস্থা যা সাংবিধানিক কাঠামোর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় না।মমতা ব্যানার্জীর পক্ষে আইনজীবী কপিল সিবাল বলেন, ইডি এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থাগুলো একটি আইন দ্বারা অপরাধ তদন্ত করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তদন্ত করা কোনও মৌলিক অধিকার নয়।
সিব্বল বলেন, “ইডি আসলে চাইছে আদালত যেন সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ইডি নিজে থেকে এমন দাবি করতে পারে না।” বিচারপতি মিশ্র বলেন, “অভিযোগ, ইডি অফিসাররা হুমকির মুখে পড়েছেন।”সিব্বল বলেন, “ধরুন, তাদের সত্যিই হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা হলেও এখানে কোন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে?” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “ইডি সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিতে বলতে পারে না। কোনও প্রতিষ্ঠিত অপরাধ না থাকলে ইডির কোনও ভূমিকা থাকে না।আগামী সপ্তাহে ফের আইপ্যাক মামলার শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।

